শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

অসম্ভব কিছুই নয়!

| প্রকাশিতঃ ১৯ অক্টোবর ২০১৬ | ১০:৫৪ অপরাহ্ন

mushfiqurচট্টগ্রাম: ইংলিশদের বিপক্ষে ৮ টেস্ট খেলে সবকটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে আবার তিনবার ইনিংস ব্যবধানে! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরিসংখ্যানটা বাংলাদেশের পক্ষে না থাকলে কি হবে? গত দুই বছরে যে বাংলাদেশ নামক দলটি অনেকটাই বদলে গেছে! তার প্রমাণ অবশ্য শেষ ওয়ানডে সিরিজে পেয়ে গেছে ইংলিশরা। এ অবস্থায় টেস্ট দলপতি মুশফিকুর রহিম বলছেন, ইংলিশদের বিপক্ষে অসম্ভব কিছুই নয়।

টেস্ট শুরুর আগে কাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মুশফিক। দু’দলের পুরনো রেকর্ড পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে চান, ‘ম্যাচটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে গত দেড় বছরে আমরা যেভাবে ধারাবাহিক খেলেছি, তাও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। আসলে অসম্ভব কিছুই নয়। দলের সিনিয়ররা প্রস্তুত। জুনিয়র যারা আছে তারা সুযোগ পেলে নিজেদের উজাড় করে দেবে। কঠোর অনুশীলন করেছি গত কয়েকটি দিন। আশা করি, পরিশ্রমের প্রতিফলন দেখতে পাবেন ম্যাচে।’

চট্টগ্রামের আবহাওয়া এখন প্রচন্ড গরম। এ আবহাওয়ায় অনুশীলনে নামতেও স্বাচ্ছন্দবোধ করেননি ইংলিশরা। টেস্ট ম্যাচে আবহাওয়া কতটা প্রভাব ফেলবে- প্রশ্নে মুশফিক বলেন, ওয়েদার অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। এটা স্বাভাবিক। পাঁচদিনের খেলা, সবকিছু মেইনটেইন করে খেলা, অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। আমার মনে হয় আমাদের চাইতে ওদের (ইংল্যান্ড) আরও বেশী কঠিন হবে। ওরা এরকম ওয়েদারে অভ্যস্ত না। এর থেকে যে সুবিধাটা আমাদের নেয়ার, সেটা আমরা চেষ্টা করবো।’

বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে টিম সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু টেস্ট সাফল্য পায়নি, বলতে গেলে তেমন টেস্ট খেলাও হয়নি। এ প্রসঙ্গে মুশফিকের ভাবনা, ‘ওয়ানডে কিংবা টেস্ট, টিম কিন্তু একটাই- বাংলাদেশ। এটাকে আলাদাভাবে দেখার দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, ১৩-১৪ বছর আগের তুলনায় শেষ একবছরে কিন্তু আমরা ভালো টেস্ট খেলেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোনদিন লিড নিতে পারেনি। কিন্তু শেষ খেলা চট্টগ্রামে খেলেছি এবং তাদেরকে অলআউট করেছি। লিডও নিয়েছি। সে হিসেবে আমাদের অনেক প্লাস পয়েন্ট আছে। কিন্তু টেস্টে আমাদের কিছু কাজ করার বাকি আছে। কারণ টেস্ট খেলা হুট করে চাইলেই পারা যায় না। যতবেশী আমরা টেস্ট খেলবো, ততবেশী খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞ হবে। এতে তারা বুঝবে যে, এই কন্ডিশনে এভাবে বল করতে হয়। সেট ব্যাটসম্যানকে কিভাবে আউট করতে হয়। এসব ম্যাচ প্র্যাকটিসের ব্যাপার।’

গত টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের সাথে ১ রানের হারের পর থেকে প্রচারমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন মুশফিক। কিন্তু বৃহস্পতিবার আর এড়াতে পারলেন না! কারণ তিনি যে টেস্ট দলপতি। এ প্রসঙ্গে বললেন, আসলে মনোযোগ একটা সুনির্দিষ্ট জায়গায় রাখতেই এমনটি হয়েছে। আমি ভাবছিলাম অন্যান্য দিকে মনোযোগ না দিয়ে যদি নিজের কাজগুলো ভালোভাবে করতে পারি, অন্তত বেশি সময় দিতে পারি- তাহলে সেটা আমার জন্য ভালো হবে। এর বাইরে তেমন কোনও কিছু নেই।’

তিনি আরও করেন, ‘এই সমটায়টাতে আমি যাতে আমার কাজের প্রতি মনোযোগটা দিতে পারি। আমি যদি এসে বলি এটা করতে চাই, ওটা করতে চাই.. বার বার বলি। তার চেয়ে যদি চেষ্টা করি কাজটা ঠিকভাবে করার- মূলত এটাই করতে চেয়েছি। হয়ত যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে হয়নি। আমি চেষ্টা করেছি যে, যাতে টিমের জন্য ভালো হয়, আমার নিজের জন্য ভালো হয়।’

২০ উইকেট নেয়ার মত বোলার বাংলাদেশের নেই- এমন মন্তব্য করেছিলেন কোচ হাতুরু। কোচের এই মন্তব্যের পর মঙ্গলবার সাকিব জানালেন, ২০ উইকেট নেয়ার মত যোগ্যতা তার সতীর্থদের রয়েছে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিকও একই মন্তব্য করলেন, ‘ফ্ল্যাট উইকেটে ২০ উইকেট নেওয়া কঠিন। সেদিক থেকে আমরা এবার পরিকল্পনা করেছি অন্যরকম। আর উইকেট যদি আমাদের স্পিনারদের সাহায্য করে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এমন মানসম্পন্ন বোলার আছে যারা ২০ উইকেট নিতে পারে। স্কোয়াডে যথেষ্ট স্পিনার আছে, পেসার আছেন দুজন। আমরা যে পরিকল্পনা করেছি, আশা করি আমাদের সেরা কম্বিনেশন যেটা হবে, তাতে অভিষিক্ত ক্রিকেটারই হোক বা অন্য কেউ, সবার ওপরই আস্থা আছে।’

টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডকে ফেরাবিট মানেন মুশফিক, ‘অবশ্যই, ইংল্যান্ড দল এগিয়ে। গত কয়েক বছরে দেশের মাটিতে ও বাইরে যেভাবে খেলছে, ওরা টেস্ট সিরিজে পরিস্কার ফেভারিট। তবে এটাই শেষ কথা নয়। ওয়ানডে সিরিজে আমরাই ফেভারিট ছিলাম। কিন্তু হেরেছি।’

অ্যালেস্টার কুকের দলের সামর্থ্যরে পরীক্ষা নিতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘প্রথম ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ হবে। টস তো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যত আগে ব্যাট করা যাবে তত ভালো। যারা লিড পাবে, তারাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে আছি। আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করছি, আমরা কঠিন লড়াই করতে পারব।’

ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে তিনশ’র বেশী রান চেয়েছেন মুশফিক, ‘আপনি যদি খেয়াল করেন, বাংলাদেশ দলের ৫-৬ জন ব্যাটসম্যান তিন ফরম্যাটেই খেলে। সেদিক থেকে, সবাই ফর্মেই আছে। ইমরুল, সকিব, তামিম বা রিয়াদ ভাই, মুমিনুল সবাই ফর্মে আছে। অবশ্যই তাদের দিকে তাকিয়ে আছি। আশা করছি সিনিয়ররা জ্বলে উঠলে আমাদের ভালো খেলা অনেকটাই সহজ হবে।’

###১৯-১০-২০১৬।