রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

ঢাবিতে চবি শিক্ষক শিপক নাথের পিএইচডি অর্জন

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯, ১:৫৯ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেব নাথ পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে “বৌদ্ধ-সংস্কৃত সাহিত্যে মহাকবি অশ্বঘোষের অবদান মূল্যায়ন’ শীর্ষক এ পিএইচডি ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন লাভ করে।

৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিপক কৃষ্ণ দেব নাথের পিএইচডি অর্জন সংক্রান্ত নথি পাঠায়। শিপক কৃষ্ণ দেব নাথ বর্তমান চবি সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধীনে এই পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। তার পিএইচডি তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এই বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া।

শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ ১৯৮২ সালের ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মিরেরখীল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মীরের খীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাটহাজারী কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বে সঙ্গে প্রথম বিভাগ লাভ করেন তিনি। ১৯৯৯-২০০০ সেশনে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা (পালি ও সংস্কৃত) বিভাগে। তিনি সংস্কৃত বিষয়ের উপর স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। একাডেমিক পর্যায়ে অর্জন করেন সর্বোচ্চ ফলাফল। ছাত্রজীবনে তিনি দৈনিক পূর্বকোণ, আজকের কাগজ, বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ, দৈনিক পূর্বদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১০ সালে প্রাচ্যভাষা (পালি ও সংস্কৃত) বিভাগের প্রভাষক পদে যোগ দেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও হলের সিনিয়র হাউস টিউটর পদে দায়িত্ব পালন করেন। ইতোমধ্যে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বিশ্ব ঐতিহ্যে ঋগ্বেদ’ পাঠকমহলে সুনাম কুঁড়িয়েছে। দেশী-বিদেশী জার্নালে তাঁর ৯টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

শিপক কৃষ্ণ দেব নাথ এ বিষয়ে বলেন, ‘যেসব কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক বুদ্ধের জীবন ও ধর্ম-দর্শনকে ভিত্তি করে সংস্কৃত ভাষায় গ্রন্থ রচনা করে বৌদ্ধ-সংস্কৃত সাহিত্য ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁদের মধ্যে অশ্বঘোষ অন্যতম। নানা আঙ্গিকের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম রচনা এবং কীর্তিময় কর্ম সম্পাদনপূর্বক তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন মহাকবি, গায়ক, সুরকার, গীতিকার, নাট্যকার, ধর্মপ্রচারক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে। বৌদ্ধ সংস্কৃত সাহিত্যের ভান্ডারে এই কীর্তিমানের অবদান মূল্যায়ন করাই ছিল আমার গবেষণার মূল বিষয়।’