শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

বড় হলে বাবা-মায়েরা সন্তানদের সন্তানের মতো হয়ে যান : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০১৯, ৭:২০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: বড় হলে বাবা-মায়েরা সন্তানদের সন্তানের মতো হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান আয়োজিত ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স সামার স্কুলের সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বড় হয়ে বাবা-মাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যখন ছোট ছিলে বাবা-মায়েরা সন্তানের স্নেহ দিয়ে তোমাদের সেবা করতো। এখন তোমরা বড় হয়েছো। পড়াশোনা করছো। একদিন আরও বড় হবে। তোমাদের কাছে অনুরোধ, বড় হয়ে বাবা-মাকে ভুলে যাবে না। তাদের সেবা করবে। কারণ বয়স বাড়লে বাবা-মায়েরা হয়ে পড়েন ছোট সন্তানের মতো।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এর অধ্যয়নরত মেয়েদেরকে ভাগ্যবান উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের গর্ব। এখানে শুধু বিশ্বমানের পাঠ দেওয়া হয় না, নারীর ক্ষমতায়নে অবিশ্বাস্য কাজ করছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান। যারা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বিশ্বমানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছো তোমরা সত্যিই ভাগ্যবান। আমরা আশা করবো, তোমরা একদিন স্বপ্নের চেয়েও বড় হবে। নারীর ক্ষমতায়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও এখন অনেক সন্তানেরা বাবা-মাকে অবহেলা করে। তাদের সেবা করে না। নির্যাতন করে। ফলে পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হচ্ছে। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এসব বন্ধ করতে পারলে তবেই শান্তি ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে সংসদে আইন পাস করেছে এবং আইনের বাস্তবায়নও করছে বলেন জানান তথ্যমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জীবন হচ্ছে বাইসাইকেল চালানোর মতো। চাইকেল চালাতে যেমন ভারসাম্য রাখতে হয়, জীবনে সফল হতে হলেও তেমনি সবকিছুতে ভারসাম্য থাকা চাই। চলার পথে জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্র মনে করবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সহকর্মী আহত হয়ে কাতরালে তার দিকে বড়জোর একটু তাকাবে। তোমাকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেই হবে। নিজের স্বপ্ন ঠিক করে তা বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে গেলে সফলতা একদিন ধরা দেবেই।

আমি মাঝেমাঝে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই। একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে আমার ভালো লাগে। তবে সরকার, এইউডব্লিও কর্তৃপক্ষ তোমাদের পড়াশোনার জন্য যে অবারিত সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে- এসব দেখে আবার ছাত্রজীবনে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে। আশা করি, তোমরা এসব কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন এবং গবেষণায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে। বলেন সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, শেভরনের পরিচালক (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) ইসমাইল চৌধুরী এবং বুয়েটের প্রফেসর ড. সেলিয়া শাহনাজ, এইউডব্লিওর রেজিস্ট্রার ড. ডেভ ডল্যান্ড।

এইউডব্লিও’র নিয়মিত শিক্ষকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অতিথি শিক্ষক এবং আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক ও গণিতবিদরা অনলাইনের মাধ্যমে ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স সামার স্কুলের বিভিন্ন কোর্সের উপর লেকচার প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে এইউডব্লিও ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স সামার স্কুলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য মেধার ভিত্তিতে দুই শিক্ষার্থীকে ‘ইমার্জিং উইমেন লিডার ইন স্টিম অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এ দুই শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপসহ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান এ স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সুযোগ দেয়া হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে এইউডব্লিও’র শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নাচ, গান আর কবিতায় দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন এইউডব্লিও’র দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

পরে কোর্সে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ড. হাছান মাহমুদ।

একুশে/এসসি/এটি