মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

স্বপ্ন তাদের অন্তরে

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯, ৬:২০ অপরাহ্ণ

ইফতেখার সৈকত : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হলের ১৩১ থেকে ১৩৪ নাম্বার কক্ষ। এখানে মোট ৮ জন থাকেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। এদের কেউ সম্পূর্ণ দেখতে পান না, আবার কেউ একটু আধটো দেখতে পান।

চোখ দেখুক আর নাই দেখুক তবে স্বপ্ন তাদের অন্তরেই। কারো আছে বিসিএস জয়ের স্বপ্ন আবার কারো রয়েছে কম্পিউটার ট্রেইনার হওয়ার ইচ্ছে।

সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে ছোটবেলা থেকে নানান প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা।

সাধারণত তাদের প্রতি ভিন্নরকম দৃষ্টি এই সমাজের। অনেকেই বোঝা মনে করেন। অনেকে মনে করেন তারা কাজ করতে পারেন না। তবে এই শিক্ষার্থীদের দেখলে সেই ভুল ভেঙ্গে যাবে। তাদের জীবন অতিবাহিত হয় একদম সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে কোনো রকম অসুবিধে হয় না তাদের। তবে অপরিচিত জায়গায় একটু সমস্যায় পড়তে হয়। শুনতে অবাক হওয়ার মত যে, হল রুমে তারা রান্না করেন। একদম সুচারুভাবেই সম্পন্ন করেন কাজটি।

তাছাড়া তাদের মধ্যে প্রত্যেকেই কম্পিউটার চালাতে দক্ষ। অনেকেই আবার দিয়ে থাকেন কম্পিউটারের ট্রেইনিং। অনেক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পারদর্শী মোবাইল ব্যাংকিংয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের (১৩-১৪) শিক্ষাবর্ষের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন একুশে পত্রিকাকে তার জীবন ও স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেন, ঢাকার সাভারে আমার বাড়ি। পরিবারে রয়েছে দুই ভাই ও একবোন। আমরা দুই ভাই দৃষ্টিহীন। ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে আজকে এতটুকু এসেছি। নিজের মনোবল কখনো হারাইনি। চারপাশের অনেকে পছন্দ করেছে আবার অনেকে করেনি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হই তখন নিজের কাছে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করেছিলো। তখন থেকে বাড়িতে গেলে আশপাশের মানুষ একটু বাড়তি মর্যাদা দিতে শুরু করে। এখন মাস্টার্সে পড়ছি। একটা স্বপ্ন আছে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। জানি না পূরণ হবে কিনা। তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা দেশের বা সমাজের বোঝা নয়। তাদের একটু সুযোগ দিলেই ভালো কিছু করা সম্ভব। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধীদের খুব কম সুবিধে রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের পড়ালেখার সামগ্রীর সঠিক জোগান দিলে অনেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নে স্বাক্ষর রাখতে পারবে।

একুশে/আইএস/এসসি