
চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যেগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ আগস্ট) চবি উপ-উপাচার্য (উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড.শিরীণ আকতারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এম.পি।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময়ের উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল মোমেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাকে খুব ভালোবাসতেন। আমি তাঁর খুব স্নেহ পেয়েছি। একদিন যখন বঙ্গবন্ধুর কাছে ধানমন্ডিতে গেলাম তখন দেখলাম বাসায় কোনো সিকিউরিটি নেই। কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। সহজেই রিসিপশনে নাম বলে উনার সাথে দেখা করতে ঢুকে পড়েছিলাম। তখন খানিকটা বিষ্মিত হয়েছিলাম। একজন প্রধানমন্ত্রী কী ভাবে এতো সাদামাটা সিকিউরিটিতে বসবাস করেন! এটা সম্ভব হয়েছিলো কারণ তিনি এদেশের মানুষদের বিশ্বাস করতেন। মানুষের প্রতি ছিলো তাঁর অগাধ আস্থা। কিন্তু এ দেশের মানুষ সেই আস্থার মর্যাদা দিতে পারেনি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, বঙ্গবন্ধু একদিকে আলোচনা করছিলেন অন্যদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। আমি কিছু এক্সক্লুসিভ করতে চাইছিলাম। আমি বলেছিলাম, শুভপুর ব্রিজটা উড়িয়ে দিতে চাই। এ ব্রিজ উড়িয়ে দিলেই ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আমার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিলেন। পরে যখন খবর পাই কুমিল্লা থেকে পাকবাহিনীর ২৬টি ট্রাক চট্টগ্রামে আসতেছে তখন আমরা ব্রিজটি ভেঙ্গে দেই। রাস্তায় গাছ কেটে ফেলে ব্যরিকেট সৃষ্টি করি।
তিনি আরো বলেন, জিয়া কখনো বলেননি তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। সে কথার কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। আমি একবার এ বিষয়ে সংসদে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক এই কথা তিনি কোথাও বলেছেন এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে সংসদ ত্যাগ করব।কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, আজকে দেশ উন্নত হচ্ছে। আমাদের আগের থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বেড়ে চলছে রেমিটেন্স। এই পথে হাঁটলে শিগগিরই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক দৈনিক আমাদের সময়ের উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলো। কিন্তু তারা কেউ বঙ্গবন্ধুর স্থান দখল করতে পারেনি। তাদের কাছে কিছু কিছু বিষয়ের ঘাটতি ছিলো।কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদের থেকে কম শিক্ষিত হয়েও এদেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছিলেন। তাইতো সেদিন বঙ্গবন্ধুর আহবানে সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় অন্যান্যদের মধ্যে ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.আওরঙ্গজেব, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.ফরিদ উদ্দীন, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সেকান্দার চৌধুরী, চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর জাকির হোসেন, সাবেক রেজিস্ট্রার প্রফেসর কামরুল হুদা, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি মাইনুল হাসান চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একুশে/আইএস/এসসি