শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

চবি শাটলের দু’ধারে কাশফুল দোলে

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯, ২:৫৬ অপরাহ্ণ

ইফতেখার সৈকত, চবি : কাশফুলের মেলা বসেছে যেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটলের দু’ধারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশন থেকে শাটল ছাড়ার পর কিছুদূর যেতেই দেখা যাবে শরতের ফুল কাশফুল।

রেললাইনের দু’পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা চিরল পাতার ঘাসে জন্ম নিয়েছে সহস্র কাশ। প্রত্যেকটি কাশে গুচ্ছ ফুল। কাশফুলের শুভ্রতায় মোহময় হয়ে ওঠেছে চারপাশের প্রকৃতি। আর সেই মোহ টেনে নিচ্ছে শাটলবিলাসীদের। কেউ হাত বাড়িয়ে মত্ত হয়ে ওঠে সেই কোমল কাশের স্নিগ্ধতা পেতে।

আবার কেউবা চোখ বুজে টেনে নিচ্ছে স্নিগ্ধতা। বই পাঠে মগ্ন কিংবা শাটলের গরমে সিদ্ধ হয়ে যাওয়া ছেলে বা মেয়েটিও চোখের পাপড়ি খুলে লুফে নেয় সেই সৌন্দর্য। আর এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রত্যহ রচিত হয় অব্যক্ত পঙ্গক্তিমালা কিংবা গানের কলি।

চলতে চলতে নগরীর বড়দিঘীর পাড় ও ভাটিয়ারী এলাকার মাঝখানে রেলক্রসিং এলাকায় দেখা যায় কাশফুলের উদ্যান। রাস্তার পাশে পতিত জমিতে ঘাষের ডগায় রাশি রাশি সাদা ফুল। মাঝেমাঝে হালকা বাতাসে এসব ফুল নুয়ে পড়ে। সৌন্দর্যের সাগরে শাটলবিলাসীদের অভিবাদন জানায় কাশগুচ্ছ।

আবার কখনও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। ক্যাম্পাসের বাইরের এসব কাশফুল যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা কিংবা সুন্দর অনুভুতি প্রকাশের বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাইতো তারা এই কাশফুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের সাথে একীভূত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াজকুরনী খান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি এ.এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী। টিউশনির জন্য প্রায় প্রত্যেকদিন শহরে যেতে হয়। শহরে সাধারণত শাটলেই যাই। শাটলে করে শহরে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে কাশফুলগুলো সত্যি মনোমুগ্ধকর।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে বছরের এই সময়টায় শাটলের লাইনের পাশে কাশফুল ফোটে। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। সত্যি শাটল থেকে তাকিয়ে যখন দেখতে পাই তুলোর মতো কাঁশফুল মাঠের মধ্যে বাতাসে দোল খাচ্ছে, সত্যি খুব সুন্দর লাগে। ইচ্ছে করে শাটল থেকে নেমে কিছুক্ষণ সময় কাটাই। কিন্তু ব্যস্ততার জন্য তা আর হয়ে ওঠে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তানহা ইসলাম আলবাইজা একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটলের পাশে প্রত্যেক বছর শরতকালে কাশফুল সরব হয়ে ওঠে। যা দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। শাটলে ক্লান্তিকর ভ্রমণের মাঝপথে যখন বাইরে তাকিয়ে শুভ্রতার সন্ধান মিলে তখন মনে এক অন্যরকম প্রশান্তি পাই। কাশফুলের শুভ্রতা মনে প্রশান্তি সৃষ্টি করে।