সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬

এবার স্বাচিপ নেতাকে ব্যঙ্গ করে সমালোচনার মুখে ডা. ফয়সল

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : এবার খোদ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) মহাসচিবের গায়ের রঙ নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচিত হলেন বিতর্কিত চিকিৎসক নেতা বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী।

গত ২৭ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য দুই বছরের ইন্টার্নশিপের জন্য একটি খসড়া নীতিমালা করার প্রস্তাব দেয়। মন্ত্রণালয়ের সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্বাচিপ মহাসচিব ডা. আবদুল আজিজ ৩০ আগস্ট একটি দৈনিক পত্রিকায় বক্তব্যও দেন। স্বাচিপ মহাসচিবের সেই বক্তব্যের স্ক্রীনশট নিয়ে ডা. ফয়সল ইকবাল ফেসবুকে স্ট্যটাস দেন ‘বাহ কী চমৎকার, সবাই তালি বাজান’।

এরপর ৩১ আগস্ট রাতে আরেকটি স্ট্যাটাসে ডা. ফয়সল লিখেন ‘তিনি দেখতে যেমন তার অন্তরটাও তেমন, বহুরুপী, গ্রুপবাজ, এসব ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা উচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।’

ডা. ফয়সলের এমন মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় ফেসবুকে। মোল্লা আমিরুজ্জামান রাসেল নামে একজন লিখেছেন, ‌‌’স্বাচিপ মহাসচিবের বিরুদ্ধে যে ডাক্তার এত নোংরা ভাষায় কথা বলতে পারে, তার স্বাচিপ করার অধিকার নেই। তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে হয় তার কথা শোনার জন্য কান পেতে আছে, ভণ্ড একটা!’

মির্জা খালেদ আল আব্বাস নামে একজন লিখেছেন, ‘ফয়সাল ভাই আপনি কি সত্যি কোনোদিন রাজনীতি করেছেন…একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে রাজনৈতিক বক্তব্য আশা করি। আজ আপনি আপনার নিজের সম্মানটুকু হারাচ্ছেন গ্রুপবাজি করতে গিয়ে বা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে। সেই সাথে দলের ক্ষতি করে চলেছেন- আপনার লেখা তাই প্রমাণ করে।’

আসিফ মাহমুদ নামে একজন লিখেন, ‘উনার বউ উনারে মাইরা বাড়িছাড়া করছে, উনার রাত কাটে নতুন তরুণী স্ত্রী নিয়ে হোটেলে হোটেলে। উনি তো নিজের স্ত্রীর কাছেই সৎ না, চেহারা আর যৌবনের মায়ায় জড়িয়ে নিজের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ খোয়াতে বসেছেন। খোদ চিটাগাং-এ তার সমসাময়িক সহযোদ্ধারা তাকে নিয়ে ত্যক্তবিরক্ত এবং তাকে এড়িয়ে চলে। এমতাবস্থায় এর ওর পেছনে লেগে লাইমলাইটে আসা ছাড়া তার আর উপায় কী?’

পি কে দেব নামে একজন লিখেছেন, ‘চৌধুরী সাহেবের গায়ের মত রক্তও কি সাদা নাকি? শুনলাম পারিবারিক কারণে বাড়ি যেতে পারছেন না!’

মাহাবুবুল হক সজল লিখেন, ‘ চামড়া ফর্সা হলেই চামারি ঢাকা যায় না। shame on those racist….’

চয়ন বিশ্বাস নামে একজন লিখেন, ‘জনাব ফয়সল ইকবালের কথায় কারো রাগ হওয়া উচিত নয়, কারণ পাগলে অনেক কথাই বলে। তার মাথা ঠিক নাই। সে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে শুনেছি আরেকখানা বিবি ঘরে এনেছেন, স্বাভাবিকভবে ১ম বৌ-এর মাইরধর খেয়ে বেটায় পাগল হয়ে গেছে তাই আবোল-তাবোল বকছে।’

কামরুল আশরাফ লিখেছেন, ‘ফয়সল ভাই আপনার কাছ থেকে এমন শিশুসুলভ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য ছিলো না।’

জাহিদুর রহমান লিখেছেন, ‘উনার মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দেহ আছে। যে পেশায় এরকম কেউ নেতা হয়, সেই পেশার অবস্থা যে কেমন হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। তবে সংগঠন হিসেবে স্বাচিপও দায় এড়াতে পারে না। উনার বিরুদ্ধে কি স্বাচিপ কোনো ব্যবস্থা নেবে না?’

বিকাশ চন্দ্র পাল লিখেছেন, ‘উনাকে নেতা মনে করতাম। এখন দেখি নেতা আর তেনার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।’

এবিষয়ে কথা হয় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম আবদুল আজিজের সাথে। তিনি একুশে পত্রিকাকে জানান, দেখুন উনি যেটা লিখেছেন এটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। যে যার মত প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না।

এসব সমালোচনার বিষয়ে জানতে ডা. ফয়সল ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

একুশে/এইচআর/এটি