শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

চবিতে ‘জঙ্গি স্টাইলে’ হামলা, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছাত্রলীগ নেতা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম: মাথার পেছনে চাপাতির কোপ। সেলাই লেগেছে দশটি৷ পিঠে রামদার কোপ ভেতরে গিয়েছে তিন ইঞ্চি৷ তাতে সেলাই লেগেছে সাতটি। কিডনির কাছে গিয়ে ঠেকেছে এই রামদা। কোমরে, পায়ে, উরুসহ শরীর জুড়ে অসংখ্য ছুরিকাঘাত৷ চাপাতির কোপে বিচ্ছিন্ন প্রায় বাম পায়ের গোড়ালি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা শোয়াইবুর রহমানের কনকের উপর হামলার দৃশ্য এটি। কনকের মা আফরোজা বেগমের দাবি, এটি ‘জঙ্গি স্টাইলে’ হামলা। কোন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ আরেকজন মানুষের উপর এভাবে হামলা চালাতে পারেনা।

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নগরীর ম্যাক্স হসপিটালে কাটছে কনকের জীবন। গত ১ সেপ্টেম্বর চবি ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কর্মীরা তার উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কনক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী ও সিএসসি গ্রুপের নেতা। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার সোহরাওয়ার্দী হলের দোতলার ২০৪ নম্বর কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন কনক। এসময় বিজয় গ্রুপের নেতা মাহফুজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখলের দায়ে বহিস্কৃত ডেপুটি রেজিস্ট্রার জাকের আহমেদের ছেলে মুজাহিদসহ ১০-১৫ জন কর্মী তার কক্ষে প্রবেশ করে। চাপাতি, রামদা দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে হলের বারান্দায় নিয়ে আসে। তাকে দোতলা থেকে ফেলে দেয়া হয়। এরপর হলের নিচে অবস্থান নেয়া বিজয় গ্রুপের কর্মীরা পুনরায় তাকে কোপাতে থাকে।

একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শরীর নিস্তেজ হয়ে আসলে হলের কর্মচারী, দোকানদাররা তাকে উদ্ধার করে। তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ম্যাক্স হসপিটালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়। অধ্যাপক কর্ণেল ডা. আনিছুর রহমান হাওলাদারের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে।

কনকের মা আফরোজা বেগম জানান, ২০১১ সালে স্বামী মারা যাওয়ার তিন ছেলেকে অনেক কষ্টে বড় করেছেন। ছোট দুই ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। সেখানে যদি সন্তানকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয় তাহলে তা হবে মায়েদের জন্য সবচেয়ে কষ্টের।

তিনি বলেন, হলে আমার ছেলে ঘুমাচ্ছিল। সে তো কোনো সংঘর্ষ বা মারামারিতে ওই সময় লিপ্ত হয়নি। রাজনীতি করে বলে কি এভাবে মেরে পঙ্গু করে দিতে হবে? এগুলো তো জঙ্গিদের কাজ। আমি এ ঘটনার বিচারের ভার আল্লাহ’র কাছেই দিলাম।

ম্যাক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, কনকের পুরো শরীর জুড়েই চাপাতির আঘাত। বড় আঘাত হয়েছে মাথায়, পিঠে। পায়ের গোড়ালিতে কয়েকটি ফ্রেকচার রয়েছে। দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসা নিতে হবে। তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে সে ফিরতে পারবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।