বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বায়োমেট্রিক হাজিরা চান না বিএমএ নেতারা

প্রকাশিতঃ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: বায়োমেট্রিক হাজিরার বিরোধিতা করে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার নেতাকর্মীরা প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দেননি।

এর আগে গত ৫ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে উপস্থিতি ও কর্মস্থল ত্যাগের সময় রেকর্ড করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ দিয়ে) হাজিরা চালু হয়। একইভাবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্মগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা চালু হয়।

এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র কনসালটেন্ট ও জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে পদোন্নতির জন্য চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক প্রতিবেদন চাওয়া হয়।

ওই প্রজ্ঞাপনে প্রার্থীদের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিগত ৬ মাসের প্রতিবেদন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রেরণের জন্যও বলা হয়।

বিষয়টিকে ‘বৈষম্যমূলক’ দাবি করে আন্দোলনে নামে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। তারা বায়োমেট্রিক হাজিরা বয়কট করার ঘোষণা দিয়ে বুধবার চট্টগ্রামে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা দেয়।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবালের নেতৃত্বে বেশকিছু নেতাকর্মী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত বায়োমেট্রিক হাজিরার মেশিন বিকল করে দেয় ও মেশিনের উপর ফেস্টুন টাঙিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম জাহাঙ্গীর একুশে পত্রিকাকে বলেন, গতকাল মধ্যরাতে বিএমএর কিছু নেতা এর বিরোধিতা করে মেশিনের উপর ফেস্টুন টাঙিয়ে দেয় ও মেশিনের ক্ষতিসাধন করে। বিষয়টি আমি স্বাস্থ্য সচিব ও মহাপরিচালককে জানিয়েছি। আর তাছাড়া বায়োমেট্রিক হাজিরার বিরোধিতা করা মানে তো সরকারের বিরোধিতা করা।

অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরার মেশিন বিকল করে দেয়ার ক্ষেত্রে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি হাসপাতালে যাইনি। চিকিৎসকরা বায়োমেট্রিক হাজিরার বিরোধিতা করে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন এবং এ পদ্ধতিতে হাজিরা দেননি। চট্টগ্রামের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ম, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও কেউ বায়োমেট্রিক হাজিরা দেননি।

তিনি বলেন, আমরা বায়োমেট্রিকের বিপক্ষে নয়। আমরাও চাই বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু থাকুক। তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এটি কেন আসলো? প্রশ্ন হচ্ছে এই নিয়ম কি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? তাহলে অন্য কোন ক্যাডারের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কেন বায়োমেট্রিক হাজিরার প্রতিবেদন চাওয়া হয় না। এটা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক একটি সিদ্ধান্ত।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরা আজকেও হওয়ার কথা থাকলেও বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তা হয়নি। তাদের দাবী সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরার উপর পদোন্নতি হয়না। তাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে না। তবে আজকের প্রতিবাদ প্রতীকী। আগামীকাল থেকে আবার সচল হবে বায়োমেট্রিক হাজিরা।

প্রসঙ্গত, বায়োমেট্রিক হাজিরার জন্য হাসপাতালগুলোতে নতুন মেশিন পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। এসব মেশিনের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পর্যন্ত মনিটরিং করা সম্ভব।