মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ঢাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

| প্রকাশিতঃ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪:৪৩ অপরাহ্ন

ঢাকা : ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডিন অফিস ঘেরাও কর্মসুচি পালন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিন অফিস ঘেরাও করতে যান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন এবং বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।

এসময় ঢাবির বিজনেস ফ্যাকাল্টি এলাকায় ছাত্রলীগের হামলায় আসিফ মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থী চোখের নিচে আঘাত পান। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গেছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী সকল নিয়ম বহালের দাবিতে আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরাও ডিনকে স্মারকলিপি দিতে আসেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

কিন্তু সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি তারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগ পরিচয়ে তারা এখানে আসেননি। দাবির বিষয়ে কথা বলতে এখানে এসেছে তারা। তাদের দাবি ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা অনার্স করবে, তারা যেন কোনও ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে পারেন। এ দাবির বিষয়ে তারা ডিনকে স্মারকলিপি দিতে ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের সামনে এসেছেন।

অন্যদিকে, ৩৪ শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তির প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা ছাড়াই সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি করিয়েছে। এর প্রতিবাদ জানাতে তারা ডিনের কার্যালয় ঘেরাও করতে আসেন। সেখানে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী তাদের কর্মসুুচির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং হামলা চালায়।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন দাবি করেন, আমরা চাই যারা বিশ্ববিদ্যালয় অনার্সে ভর্তি হন, তারা যেন কোনও পরীক্ষা ছাড়াই সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে পারেন। এজন্য আমরাও কর্মসুচি পালন করতে এসেছি। আমাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রহিম। তিনি উভয়পক্ষের আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টরকে ঘিরে ধরেন এবং হামলার বিষয়ে অবহিত করেন।

এদিকে সংঘর্ষের পর ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কর্মীরা বিজনেস ফ্যাকাল্টি এলাকা থেকে চলে গেলেও সেখানে অবস্থান করছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।

একুশে/এসসি