মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

সাংবাদিক বহিষ্কারে প্রতিবাদমুখর চবিসাস

| প্রকাশিতঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:৫৮ অপরাহ্ন

চবি প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দ্য ডেইলি সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের প্রতিবাদে, বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার ও একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শামস জেবিনের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদে সন্ত্রাসি হামলার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জিনিয়াকে হেনস্তায় জড়িত সকলের শাস্তি, শামস জেবিনের উপর হামলায় জড়িতদের শাস্তি, ক্যাম্পাসে নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত ও উপাচার্যের পদত্যাগসহ মানববন্ধনে চবিসাসের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরীর সঞ্চালনায় চবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ মূলত বিচার বিশ্লেষণ, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদি। এর দ্বারা সত্য উন্মোচিত হয়। সাংবাদিকরা যখন এগুলো নিয়ে আলোচনা করে, সত্য উন্মোচিত করে তখন কালো শক্তিরা বিচলিত হয়ে যায়৷ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধ শক্তি মনে না করে তাদের সহায়ক শক্তি মনে করতে হবে।

স্টুডেন্ট এগেইন্সট ভায়োলেন্স এভরিহোয়্যার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টারের সংগঠক মোহাম্মদ নকীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে স্বাধীন মত-প্রকাশের পরিবেশ করে দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় যেখানে প্রগতিশীলতা, মুক্তচিন্তা চর্চার কথা, গবেষণায় নিয়োজিত থাকার কথা সেখানে সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে!

চবি সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটা জায়গায় এরকম ভিসি, এরকম চাটুকার প্রক্টর অত্যন্ত লজ্জাকর।

চবিসাসের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, অত্যন্ত হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। যেখানে প্রশাসন স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেছে। সাংবাদিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নেমেছে। এই অপশক্তি নিপাত না যাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলছে৷

চবিসাসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ বাইজিদ ইমন বলেন, যেখানে অন্যায়, যেখানে নিপীড়ন, যেখানে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের লাঞ্চনা সেখানেই প্রতিবাদমুখর হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূণ্যভূমিতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়, যার নাম বঙ্গবন্ধুর নামে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তি একজন কুলাঙ্গার অধিষ্ঠিত থাকতে পারে না। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে চাচ্ছি যেন তারা তাকে অপসারণ করে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়৷

চবিসাসের সদস্য মিনহাজুল ইসলাম তুহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা সাংবাদিকতা করে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী একইসাথে সাংবাদিকতার মত কঠিন পেশায় নিয়োজিত। বঙ্গবিন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য চাইতে গিয়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

চবিসাসের কার্যকরী সদস্য রায়হান উদ্দিন বলেন, প্রশাসন কতটা নির্লজ্জ হলে সামান্য স্ট্যাটাসের কারণে সাংবাদিক বহিষ্কার করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ ধারায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে৷ অথচ খন্দকার নাসির এই অধিকার খর্ব করে যাচ্ছে।

চবিসাসের প্রচার, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক নাজমুস সায়াদাত বলেন, আপনার মত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাজ- মধ্যরাতে আপনাকে নোটিশ জারি করতে হয় আন্দোলন বন্ধ করার জন্য।

চবিসাসের অর্থ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মুনাওয়ার রিয়াজ মুন্না বলেন, এমন কর্মকাণ্ড বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনভিপ্রেত। হাসি পায় উপাচার্যের কাছ থেকে এমন আচরণ। নারীলোভী, অর্থলিপ্সু এই উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।

চবিসাসের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ রাকীব বলেন, খন্দকার সাহেব, আজ চারপাশ অন্ধকার আপনার। জিনিয়ার পিতাসুলভ আচরণ আপনার প্রয়োজন নাই৷ অভিভাবকত্বের প্রয়োজন নাই। আপনার বাসভবনে যে অবৈধ শিশুসন্তান জন্ম নেয় তার অভিভাবকত্বের বিষয়ে আপনার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় এমন শাসন মানায় না। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশের নৈতিক অধিকার নেই৷

চবিসাসের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইমরান হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী- সাংবাদিকদের আন্দোলনে নামতে হচ্ছে কেন? দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী যেসব সংস্থা রয়েছে তাদের কোন বক্তব্য পাইনি। আপনারা যদি তাদের না থামান সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলবে।

এতে সংগঠনটির সকল সদস্য, কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।

একুশে/আইএস/এসসি