
চবি প্রতিনিধি: মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা এলাকার তিনজনকে মারধর করেছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। শনিবার বিকেলের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেইট এলাকায় বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত মো. নাজিম উদ্দীন চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। অন্যদিকে মারধরের শিকার হয়েছেন হাটহাজারীর জোবরা এলাকার মোঃ ইলিয়াস কাঞ্চন, মো. ইসমাঈল ও মাইনউদ্দিন আরমান।
জানা যায়, গত জানুয়ারিতে নাজিমের একটি বাইক চুরি হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা দপ্তর বরাবর অভিযোগ জানালেও উদ্ধার হয়নি সেই বাইক। পরে আজ শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই তিনজনকে ধরে বাইক চুরির অভিযোগে সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫১ নং রুমে তাদের আটকে রাখে ছাত্রলীগ নেতা নাজিম ও তার সহযোগিরা। এ সময় তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের হাতে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নং গেইটের ফটক বন্ধ করে নাজিম উদ্দীনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার ও শাস্তির দাবি জানায়। এ সময় টায়ার পুড়ানো ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান বলেন, আমাদের এলাকার তিনটি ছেলেকে হলের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে নাজিম নির্যাতন করেছে। সে আমাদের যুবলীগ নেতা আবছারের একটি মোবাইল ফোনও ছিনতাই করেছে। আমরা এর সুষ্টু বিচার চাই।
এদিকে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ধরা পড়া তিনজনসহ আরও কয়েকজন মিলে গত ২ জানুয়ারি আমার বাইকটি চুরি করে। আমি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু আমি বাইকটি এখনও ফেরত পাইনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত তারা (জোবরা এলাকার তিন ছেলে) বাইক চুরির সাথে জড়িত।
মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো সামান্য চড়-থাপ্পড় দিয়েছে, এর বেশি না। মারলে তো ওদের গায়ে রক্ত লেগেই থাকতো, সবাই দেখতো।
এ বিষয়ে বিশ্বাবিদ্যালের সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়া বলেন, আটক হওয়া তিনজন বাইক চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জেনেছি। পুলিশকে বলেছি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে। বাইকটি উদ্ধার হলে মালিকানার ভিত্তিতে হস্তান্তর করবো। আর স্থানীয়রা যে মোবাইল চুরির মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে সেটা পূর্ণ বিবরণসহ লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। সে অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।