সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

বেঁচে থাকার আলোকবর্তিকা ‘দোহাজারী ব্লাড ব্যাংক’

প্রকাশিতঃ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ৮:৪০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজনে বেঁচে থাকার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে ‘দোহাজারী ব্লাড ব্যাংক’। শুধু রক্তদান নয় দেশপ্রেম অন্তরে ধারণ করে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সংগঠনটির প্রতিটি সদস্য। তারমধ্যে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন, শীতার্তদের শীতবস্ত্র বিতরণসহ জনহিতকর নানা কর্মসূচি পরিচালিত হয় বছরজুড়ে।

সংগঠনটির এডমিন মাইনুদ্দীন হাসান বলেন, একব্যাগ রক্ত কতটা মূল্যবান এটা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন। আমরা প্রায় প্রতিদিন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রক্তের জন্য হাহাকার দেখি, যেখানে কোনো মুমূর্ষু রোগী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রক্তের প্রয়োজন অনুভব করে।

ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে তথ্য আদান প্রদান করে রক্তদাতা যোগাড় করেন সংগঠনটির সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সংগঠনটির পাবলিক গ্রুপের মেম্বার বর্তমানে ২৯ হাজার, রয়েছে পাবলিক পেজ। এছাড়া টুইটার, লিঙ্কডইন, ইনস্ট্রাগ্রাম, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহযোগিতায় রক্তদানের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

সামাজিক ও মানবিক কাজে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘দোহাজারী ব্লাড ব্যাংক’ সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছে উল্লেখ করে সংগঠনটির এডমিন রাশেদুল ইসলাম বলেন, সম্মাননা, প্রতিদান কিংবা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছেন তারা। ভবিষ্যতে আরো ব্যাপকভাবে সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করা হবে।

চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির মাধ্যমে সরেজমিনেও চলে তাদের প্রচারণা। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র, চাকুরীজিবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সদস্যদের মাসিক চাঁদা ও আর্থিক অনুদানে সংগঠনটির সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সংগঠনটির আরেক এডমিন এস.এম ওয়াহিদ রনি বলেন, মানব সেবাই হলো বড় সেবা। আমাদের সংগঠন থেকে সর্বদা চেষ্টা করি, অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর। ‘দোহাজারী ব্লাড ব্যাংক’ সদস্যরা প্রায় প্রতিদিন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্বেচ্ছায় রক্ত সংগ্রহ করে দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের প্রাণ বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংগঠন পরিচালনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংগঠনে চারটি স্তর রয়েছে। এডমিন, কার্যকরী পরিষদ, সহ-কার্যকরী পরিষদ ও শুভাকাংখী পরিষদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের উদ্যোগে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।

একুশে/এসসি