মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চবি ছাত্র ইউনিয়নের ৩১তম সম্মেলন চলছে

| প্রকাশিতঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬:০৯ অপরাহ্ন

চবি প্রতিনিধি : ‘পূর্ণাঙ্গ আবাসন-পরিবহন সুবিধা ও গবেষণাবান্ধব মুক্তবুদ্ধি চর্চার গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস চাই’ স্লোগানকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার ৩১তম সম্মেলন শুরু হয়েছে। চলবে আগামীকাল পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ধীষণ প্রদীপ চাকমার সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধক বক্তব্য রাখেন রুহিন হোসেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ লোভ আর ভয়ের রোগে আক্রান্ত। সবার মাঝে আমিত্ব ঢুকে গেছে। তাই কিছু করতে গেলেই লোভ আর ভয় চেপে ধরছে। বর্তমানে সর্বত্র ঘুষ, দূর্নীতি, লুটপাট আর দূবৃত্তায়ন প্রবেশ করেছে। যার অন্যতম ক্যাসিনো ব্যবসার অপসংস্কৃতি এখন সবার সামনে উন্মুক্ত।

তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ মানতে গিয়ে পুলিশ সংগঠন ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে অসাম্যের সমাজ গড়ে উঠেছে। দেশের সাড়ে চারকোটি মানুষ এখনো অর্ধাহারে জীবন যাপন করছে। সংখ্যালঘু আর পাহাড়ে নির্যাতন চলছে নির্বিচারে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করণে ছাত্র ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল বিশ্বমানের। অথচ শাটলে ঝুলে, ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে ক্যাম্পাসে আসি আমরা। ক্যান্টিনের উচ্চমূল্য আর আবাসিক সংকট তো রয়েছেই। শিক্ষকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস না নিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ৭৩’র বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ বোধহয় শিক্ষকরা পড়েও দেখেন না। কেননা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ব্যবস্থা চালু কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে গত কয়েক দশক আগে শাটলে যে পরিমাণ বগি ছিল, সেটি আর বাড়ানো হয়নি। অথচ বর্তমানে শিক্ষার্থী বাড়লেও উলটো মান কমেছে শাটলের। এসি রুম আর গাড়িতে চড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তারা এসব ভোগান্তি কিভাবে বুঝবে। কয়েকটি ক্লাস, কিছু সুবিধা, সার্টিফিকেট প্রদানই কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে জ্ঞাণ তৈরি আর হাজার বছরের অর্জিত জ্ঞান ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করা।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা গবেষণা খাতে রাখা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু পড়ে এক হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে তা যদি কেবল শিক্ষকদের পেছনে ব্যয় করা হয় মাথাপিছু পড়বে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এই নগণ্য গবেষণা বরাদ্দের স্তুতি গাইতে ব্যস্ত মিডিয়াগুলো। মোট বাজেটের ৩০-৪০ ভাগ গবেষণা খাতে বরাদ্দ দিতে হবে।

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুরের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের কোষাধ্যক্ষ জয়চন্দ্র রায়, সদস্য আতিক রিয়াদ, রাঙ্গামাটি সংসদের সভাপতি অভিজিৎ বড়ুয়া, শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা জাহান রুমি প্রমুখ।

সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামীকাল সংগঠনটির নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে।

একুশে/আইএস/এসসি