সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

হুইপ সামশুলের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক অর্থ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩, ২০১৯, ৭:০৭ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: হঠাৎ করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজের একটি ব্যাংক হিসাব থেকে ৫০ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন সরকারদলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী। বেসরকারী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখায় হুইপের স্ত্রীর দুটি হিসাবে এখনো ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ও একই বছরের ২ জুন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় দুটি হিসাব খোলেন সামশুল হকের স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী। সেখানে বিভিন্ন সময়ে লাখ লাখ টাকা জমা করা হতো। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দেয়া হয়।

অন্যদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. তারেকের সহযোগিতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজের ভাই মো. শাহীন উল্লাহ মুকুলের ব্যাংক হিসেবে হঠাৎ ৫০ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেন হুইপের স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী। শাহীনের ব্যাংক হিসাবটিও খোলা হয়েছে একই ব্যাংকের একই শাখায়। হঠাৎ করে এত টাকা সরিয়ে ফেলার ঘটনায় ব্যাংকপাড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বড় লেনদেনগুলোকে সন্দেহজনক চিহ্নিত করে মাস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হয় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে। এরপর এসব বিষয় খতিয়ে দেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে টাকার উৎস খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদক, এনবিআর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকেও অনুরোধ করে বিএফআইইউ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর রেশ না কাটতেই হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের একটি অডিও সামনে আসে। ওই অডিওতে তিনি নগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরীকে চড় মেরে দাঁত ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তায় কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দেন। পরে হুইপ সামশুলের বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে গণমাধ্যমে। এসবের মধ্যেই সামনে এসেছে হুইপ সামশুলের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের বিষয়টি।

ব্যাংক হিসাবের লেনদেনপত্রে দেখা যায়, হুইপের স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের একটি হিসাবে সর্বশেষ ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬৫ টাকা রয়েছে। অন্য হিসাবে সর্বশেষ জমা আছে ৬১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮০ টাকা। দুটি হিসাবে সবমিলিয়ে এখন ৮১ লাখ ২০ হাজার ৪৫ টাকা জমা আছে।

এদিকে সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী তথ্য দিয়েছেন, তার স্ত্রীর নামে নগদ ১৯ লাখ ২ হাজার ২৪৪ টাকা রয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে আরো ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৮ টাকা। জীবন বীমা ব্যবসার মূলধন ও পিস্তল বাবদ স্ত্রীর নামে আরো ২৩ লাখ ১০ হাজার ৫৩০ টাকা রয়েছে।

সবমিলিয়ে ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৪১২ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে হুইপ সামশুল হক নির্বাচন কমিশনকে তথ্য দিয়েছিলেন। এর তিনমাস পর চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি হুইপের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে সর্বশেষ টাকা জমা হয়। সে হিসেবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় কামরুন নাহারের শুধু দুটি ব্যাংক হিসাবেই এক কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার ৪৫ টাকা জমা পড়ে। হঠাৎ করে এত টাকার মালিক কীভাবে হলেন হুইপের স্ত্রী সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

এদিকে টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানার জন্য ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার ম্যানেজার নেয়ামত উল্লাহকে একুশে পত্রিকার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়। হুইপের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৫০ লাখ টাকা সরানো সংক্রান্ত প্রশ্ন শুনে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও ম্যানেজার নেয়ামত উল্লাহ আর ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে জানতে কামরুন নাহার চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।