শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

আবরার ফাহাদ স্মরণে চবি ছাত্রলীগের শোক র‌্যালি

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ


চবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মরণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর সাথে একাত্বতা পোষণ করে শোক র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)শাখা ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট থেকে এক শোক র‌্যালি বের করে শাখা ছাত্রলীগ। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে একটি সমাবেশ করেন এবং সেখানে আবরারের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

সমাবেশে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, আবরার আমাদের ভাই। আমাদের শরীরে যে রক্ত আছে তা আবরারের শরীরেও প্রবাহিত হচ্ছে। যারা তাকে হত্যা করেছে তারা কোন দেশের নয়, দলের নয়, গোষ্ঠীর নয়। তারা শুধুমাত্রই খুনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনা থেকে ছাত্রলীহের সবাই চায় দ্রুত যেন আবরার হত্যার বিচার হয়। যে দেশ শেখ হাসিনার সেখানে কোন অন্যায় কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। যেকোন অপকর্মের বিচার বাংলাদেশে হচ্ছে৷ তার প্রমাণ হিসেবে দ্রুত আবরার হত্যার আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে বসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকে বলা হয়েছে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী সংগঠন। এই নুরুর পাগলামির জবাব আমরা দিব। ভিপি নুরু মিডিয়াকে নিয়ে রাজনীতি করছে। আমরা বলি আপনি ঢাবিতে আছেন, ঢাবিতে থাকেন। চবি ছাত্রলীগ নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। না হলে হয়তো অনেক কিছুই থাকবে না৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন নৈরাজ্য হতে দেওয়া হবে না৷ আমরা ভাই হত্যার বিচার চাই। জামাত-শিবির, বিএনপির কোন চক্রান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ আমরা দিব না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে আমরা কোন সুযোগ দিব না।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, আবরারের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত অমানবিক ও ঘৃণিত। যারা এই নৃশংস কর্ম ঘটিয়েছে আমরা তাদের শাস্তি চাই।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধে জড়িত থাকে তার দায়ভার ছাত্রলীগ নিবে না। প্রগতিশীল সকল সংগঠন যে প্রতিবাদ জানিয়েছে তার সাথে একাত্মতা পোষণ করছি আমরা৷ তবে মৌলবাদী গোষ্ঠী এ ঘটনায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়েছে। যারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা এ হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইলে চবি ছাত্রলীগ কঠোর হস্তে দমন করবে৷ তখন আমাদের সন্ত্রাসী অপবাদ দিলেও আমরা তা মাথা পেতে নেবো।

এসময় তিনি ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরুকে ‘পাগলা’ হিসেবে মন্তব্য করে বলেন, তার নৈতিক স্খলন ঘটেছে। তার কাজ হচ্ছে চবি ছাত্রলীগ নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করা।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার ০৬ (অক্টোবর) রাতে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন আবরারের বাবা। ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।