মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

নিজেদের রুম ছেড়ে দিয়ে ভর্তিচ্ছুদের থাকতে দিচ্ছে চবি শিক্ষার্থীরা

| প্রকাশিতঃ ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৭:৪৮ পূর্বাহ্ন


চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে রোববারবার থেকে। যা চলবে ৩১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত।

ভর্তি পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা আসছে এই ক্যাম্পাসে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ২ হাজার ১০০ একরের পাহাড়ি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের সর্বত্রই ভর্তিচ্ছুদের আনাগোনা।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা এসব শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সহ আশেপাশের মেস, কটেজ এবং ভাড়া বাসায়। তবে সিংহভাগ ভর্তিচ্ছু অবস্থান করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের থাকার জায়গা ছেড়ে দিয়ে থাকতে দিচ্ছে ভর্তিচ্ছুদের। সাহায্য করছে পরীক্ষা কেন্দ্র চিনিয়ে দিতে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে।

সরজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল, আলাওল হলসহ অন্যান্য হল ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক রুমে ৬ থেকে ৭ জনের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। হলের রুমে জায়গার সংকট হওয়ায় অনেক ভর্তিচ্ছু গাদাগাদি করে থাকছে হলের ডাইনিং ও টিভিরুমে।

ফ্যান, লাইট পর্যাপ্ত না থাকায় গরম সহ্য করার পাশাপাশি মশার কামড়ও সহ্য করতে হচ্ছে তাদের। বাধ্য হয়ে কয়েল নিয়ে আসলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পড়ালেখা করতে।নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্বেও থাকার জায়গা পেয়ে সন্তুষ্ট ভর্তিচ্ছুরা। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আচরণেও মুগ্ধ তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের টিভি রুমে অবস্থান করা ভর্তিচ্ছু কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের নানা দুর্ভোগের কথা।

এ সময় ময়মনসিংহ থেকে আসা সজিব নামের এক শিক্ষার্থী একুশে পত্রিকাকে বলেন, এলাকার ভাইদের সাথে যোগাযোগ করে এলে উনারা আমি সহ আমার দুই বন্ধুকে তাদের রুমে নিয়ে যায়। সেখানে জায়গা না থাকায় টিভি রুমে নিয়ে আসেন। এখানে থাকতে সমস্যা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইয়েরা আমাদের অনেক সাহায্য করছেন। গত শনিবার রাতে আমার এক বন্ধু অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সার্বক্ষণিক সিনিয়র ভাইয়েরা আমাদের তদারকি করছেন।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, এখানকার সব ভাইয়েরা খুবই আন্তরিক। আমি চাই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাদের সাথে লেখাপড়া করতে।

আলাওল হলের ৩০১ নং রুমে থাকা জিসান নামের এক ভর্তিচ্ছু বলেন, আমি ভোলা থেকে এসেছি। আমার ফুফাতো ভাইয়ের একজন বন্ধু যিনি চবিতে পড়েন, উনার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিজের রুম ছেড়ে দেন। এবং আমি ও আমার তিন বন্ধুকে এই রুমে থাকতে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন বলেন, দায়িত্ববোধ থেকে আমরা ভর্তিচ্ছুদের নিজেদের রুমে থাকতে দিয়েছি। সেক্ষেত্রে আমরা অনেকেই বাইরে অবস্থান করছি। তাতে আমাদের কোন দুঃখ নেই। কোন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে এতটুকুও সহায়তা করতে পারা একটি বড় ব্যাপার। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।