সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নাচ-গানে নিষেধাজ্ঞা!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯, ৭:৩১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে নাচ-গান না করতে নিষেধ করা হয়েছে; যিনি ‘মধু হই হই আরে বিষ খাওয়াইলা’-এই গানটি গেয়ে নেট জগতে রীতিমতো ভাইরাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর নাচ-গানের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন এবং জানিয়ে দেন ভবিষ্যতে এভাবে আর নাচ-গান করা যাবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী একুশে পত্রিকাকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, আপনাকে এবারের মত মাফ করা হয়েছে, সামনে (নাচ-গান) করলে আমরা আর পারবো না আপনাকে সেফ করতে।

একুশে পত্রিকার কার্যালয়ে তাকে ঘিরে একটি আড্ডার প্রস্তাব দেয়া হলে সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, না ভাই আর কখনোই এসব করা যাবে না। সিভিল সার্জন পোস্টটা তো অনেক বড়। এই পদে থেকে এধরনের আর কিছু করা যাবে না এটাই আমাকে বোঝানো হয়েছে। আমার শত্রুর তো অভাব নেই। তারা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়েছে আমার ব্যক্তিত্ব নেই, আমি ব্যক্তিত্বহীন। ব্যক্তিত্বের একটা বিষয় আছে না। ভাই বাদ দেন, বাদ দেন। বলেন আজিজুর রহমান।

এদিকে, সিভিল সার্জনের নাচ-গানে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি অনেকেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন কাউন্সিলর, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিল্পী অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি (সিভিল সার্জন) তো কোনো অন্যায় করেননি। কোটি কোটি টাকা লোপাট করেননি। মানসিক প্রশান্তির জন্য শ্রেফ গান গেয়েছেন, একটু নেচেছেন।

সরকারি কর্মকর্তা বলে কি তাঁর অনুভূতি ভোতা হয়ে যাবে, মন বলে কিছুই থাকবে না? পাল্টা প্রশ্ন রেখে অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা গান করলেই তার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হবে বা চলে যাবে তা আমি মানতে পারি না। ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞা কী তাও জানতে চান চট্টগ্রামের এ নারী নেত্রী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির একুশে পত্রিকাকে বলেন, সিভিল সার্জন সাহেব গান গাইতেই পারেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই। গাড়িতে বসে যে গানটি করেছেন সেটাও তেমন দোষের নয়। কিন্তু সবচেয়ে দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে সুইমিং পুলে হাফপ্যান্ট পরে ‘মেরে আঙ্গেনে মে তুমহারা কিয়া কাম হায়’ গানটি। একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো সুস্থ মানুষ এভাবে নেচে গেয়ে গান করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিতে পারেন না। আমরা উনাকে (সিভিল সার্জন) তাঁর অবস্থা, অবস্থান এবং সুস্থধারার আচরণের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছি।

এর আগে গত বুধবার রাতে (৩০ অক্টোবর) সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, একটি পাজারো গাড়ির ভেতরে বসা অবস্থায় আজিজুর রহমান সিদ্দিকী হাততালির মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিখ্যাত আঞ্চলিক গান ‌‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’ গানটি পরিবেশ করছেন।

সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে একই তালে-একই সুরে গানটি গেয়েছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন অন সুই প্রু মারমাও। আর তাদের এই গানের ভিডিওটি ধারণ করেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন শওকত উল্লাহ।

গানটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর ফেসবুক ওয়াল থেকে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ভিডিওটি দেখেছেন ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ। লাইক পড়েছে ২ হাজার ২০০, মন্তব্য এসেছে ৫৪টি এবং শেয়ার করেছেন ১২শ’ ফেসবুক ব্যবহারকারী। এর বাইরে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি ডাউনলোড করে নিজের মতো করে ফেসবুকে আপলোড করেছেন।

সেদিন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, হবিগঞ্জে সিভিল সার্জনদের সম্মেলনে অংশ নেয়া শেষে বুধবার ফেরার পথে কুমিল্লায় গাড়িতে দুষ্টুমির ছলে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় গান ‘মধু হই হই আরে বিষ খাওয়াইলা’ গানটি গাই। আমাদের বহনকারী পাজেরোটি যখন কুমিল্লায় প্রবেশ করে তখন আমি গানটি ধরি। এতে কণ্ঠ মেলান বান্দরবানের সিভিল সার্জন অং সুই প্রু মারমাও। আর নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন শওকত উল্লাহ। তবে গানটি মজা করেই ফেসবুকে আপলোড করা হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী আরেকটি ভিডিও নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন; যেখানে তাকে একটি কিডস সুইমিংপুলে নাচতে-গাইতে দেখা যায়। তবে ফেসবুক প্রায় সবাই সিভিল সার্জনদের এই গান গাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেননি। কুমিল্লায় থাকাবস্থায় গড়ে তুলেছেন ‘চিরকুমার’ সমিতি। বিয়ে, প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কে কিছুদিন আগে একটি অনলাইন পত্রিকাকে তিনি বলেছিলেন, আমি মনে করি মানুষকে ভালোবাসার চেয়ে বড় আনন্দ বা ইবাদত আর নেই। মানুষ আছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর। যদি পৃথিবী স্বর্গ হতো এবং সেই স্বর্গে মানুষ না থাকত তবে সেটি এমন সুন্দর হতো না। আমি মেয়েদের নারী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখার চেষ্টা করি। তাই মেয়েদের প্রতি আমার কোনো আকর্ষণ-বিকর্ষণ নেই। মনের মতো কাউকে পাইনি বলে বিয়ে করিনি, সামাজিক কারণে বিয়ে করতে চাইনি। আমরা ১১ ভাই-বোনের মধ্যে চার ভাই, এক বোনই ডাক্তার। এক ভাই ইঞ্জিনিয়ার। এক বোন শিক্ষক। বাকি চার বোন সমাজকর্মী ও গৃহিণী।

একুশে/এসআর/এটি