
ঢাকা : কারও কোনো অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ উপস্থাপন করলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করা যাবে না। আমরা চাই না পরিবেশ অস্থিতিশীল হোক কিংবা পরিস্থিতির অবনতি হোক। তবে তার (জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলাম) বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
বুধবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
এখন পর্যন্ত জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে কেউ তার কাছে কোনো অভিযোগ নিয়ে যাননি বলেও জানান নওফেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহে সরকার হস্তক্ষেপ করে না উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানের ক্ষেত্র। এটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানকার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। তারপরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা সেটি তদন্ত করে দেখব। কেউ এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কেউ দেননি। তাছাড়া অভিযোগ আনলেই তো হবে না, সেটি প্রমাণও হতে হবে।
উল্লেখ্য, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে জাবি উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবি ওঠে জাবিতে। সোমবার সন্ধ্যায় তার বাসায় সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবারও তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে জাবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধও করা হয়। সেখানে ভিসির অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরতদের ব্যাপক মারধর করে ছাত্রলীগ। তারা অবরুদ্ধ উপাচার্যকে ‘মুক্ত’ করেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার জাবি ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে জাবি প্রশাসন। শিক্ষার্থীদেরও হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সে নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে ফের তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সংহতি জানিয়ে অবস্থান নিয়েছেন জাবি ক্যাম্পাসে।
একুশে/এএ