মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

’টেকসই বাংলাদেশ ও শোষণহীন সমাজ গড়তে সবার সহযোগিতা দরকার’

| প্রকাশিতঃ ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা বলেছেন, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটতো না। এ কথাটি অস্বীকার করার কিছুই নেই। ১৯৭১ সালে জাতির পিতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত ও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীদের পরাজিত করে আমরা পেয়েছি মহান স্বাধীনতা ও লাল সবুজের পতাকা খচিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেই আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় পৌঁছেছি।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত ‘বিজয় ফুল উৎসব’ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে জাতীয় ফুল শাপলাকে বিজয় ফুল হিসেবে চিহ্নিত করে বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদেরকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মমত্ববোধ ও দেশপ্রেম সৃষ্টির পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারা এগিয়ে আসবে। একইসাথে দেশের সকল মানুষের অংশগ্রহণে বর্তমান সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২১ সালে এদেশ মধ্যম আয়ের, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ ও শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার সাবরিনা আফরিন মুস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মোসলেম উদ্দিন সিকদার। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস ও বিভাগের অধীন ১১ জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে ‘ক’ গ্রুপে প্রাইমারী, ‘খ’ গ্রুপে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি এবং ‘গ’ গ্রুপে ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ‘বিজয় ফুল উৎসব’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মোট ৮টি বিষয়ের প্রতিযোগিতায় দলীয় ও এককভাবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কারসহ সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতায় দলীয়ভাবে ‘ক’ গ্রুপে নোয়াখালীর অরুন চন্দ্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-১ম, চাঁদপুরের শাহরাস্তি বিয়াম ল্যাবরেটরী ২য় এবং কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেচ্ছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩য় সাথান অর্জন করেন। ‘খ’ গ্রুপে চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-১ম, বান্দরবানের মেঘলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-২য় এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ-৩য় স্থান অর্জন করেন। ‘গ’ গ্রুপে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীস্থ কধুরখীল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়-১ম, কুমিল্লার দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়-২য় এবং চাঁদপুর সদরের জানে আলম একাডেমি-৩য় স্থান অর্জন করেন।

দেশাত্মবোধক সংগীতে দলীয়ভাবে ‘ক’ গ্রুপে চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-১ম, রাঙ্গামাটির জুড়াছড়ির পানছড়ি ভুবনজয় মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-২য় এবং কক্সবাজারের রামুর মেরংলোহা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-৩য় স্থান অর্জন করেন। ‘খ’ গ্রুপে চট্টগ্রামের নাছিরাবাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়-১ম, কুমিল্লা জিলা স্কুল-২য় এবং রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়-৩য় স্থান অর্জন করেন। ‘গ’ গ্রুপে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল-১ম, চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি-২য় এবং খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজ ৩য় স্থান অর্জন করেন।

দলীয় জাতীয় সংগীত, দেশাত্ববোধক সংগীত এবং এককভাবে ক, খ ও গ গ্রুপে বিজয় ফুল তৈরী, গল্প রচনা, কবিতা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাংকন ও একক অভিনয় প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের মধ্যে শুধুমাত্র প্রথম স্থান অর্জনকারীরা আগামী ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য ‘বিজয় ফুল উৎসব’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে।