শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নীতি-আদর্শের সাথে আপস না করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিতঃ শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ১১:০১ অপরাহ্ণ

ঢাকা : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শিক্ষকদের প্রতি ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নীতি ও আদর্শের সাথে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে শিক্ষকগণ প্রশাসনের বিভিন্ন পদ-পদবি পাওয়ার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঠিকমতো অংশ না নিয়ে বিভিন্ন লবিং-এ ব্যস্ত থাকেন। অনেকে আবার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতেও পিছ পা হন না। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ভুলে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনে সম্পৃক্ত হন। এটা অত্যন্ত অসম্মানের ও অমর্যাদাকর।

রাষ্ট্রপতি শনিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শেখ কামাল স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে একজন শিক্ষককে আদর্শ ও ন্যায়-নীতির প্রতীক হতে হবে উল্লেখ করে তাদের পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি ।

তিনি বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে-সব খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা দেখে আচার্য হিসেবে আমাকে মর্মাহত করে।

আবদুল হামিদ বলেন, আপনারা রাজনৈতিকভাবেও খুবই সচেতন ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও চিন্তা-চেতনায় একজনের সাথে আরেক জনের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব যেন প্রতিষ্ঠানে বা শিক্ষার্থীর ওপর না পড়ে তাও নিশ্চিত করতে হবে।

যারা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেন, রাষ্ট্রপতি তাদের সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে অবশ্যই দুরে থাকার পরামর্শ দেন।

নতুন স্নাতকদের অভিনন্দন জানিয়ে আবদুল হামিদ তাদের বর্তমান অবস্থানে আনতে মা-বাবা, শিক্ষক, সমাজ এবং দেশ ও জনগণের অবদানের কথা মনে রাখার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, মনে রাখবে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তোমাদের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে। তাদের কাছে তোমরা ঋণী। এখন সময় এসেছে সেই ঋণ পরিশোধ করার। তোমরা তোমাদের মেধা, কর্ম ও সততা দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণ করতে পারলে সেই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে। এ দেশ ও দেশের সাধারণ জনগণকে ভুলবে না।

রাষ্ট্রপতি ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে উল্লেখ করে জাতীয় তাৎপর্যবাহী এ দুটি অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে উদযাপনে নবীন গ্র্যাজুয়েটসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য ৩,৪৩২ জন গ্রাজুয়েট নিবন্ধন করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সমাবর্তন বক্তা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্র্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, প্রো-উপাচার্য ড. চৌধুরী এম জাকারিয়া, রাবি’র কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর একে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

একুশে/এএ