
চবি প্রতিনিধি: বর্তমানে সবার সামনে নেতৃত্বের রোল মডেল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন বলেন মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রজতজয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমরা সব বিষয়ে রোল মডেল খুঁজি। প্রতিটি দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র রোল মডেল খোঁজে। হ্যাঁ, রোল মডেল দরকার আছে। শুধু অর্থনীতিতে নয়, আমাদের নেতৃত্বেও রোল মডেল খুঁজতে হবে। পরাধীনতার সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন আমাদের রোল মডেল। যিনি এ জাতিকে স্বাধীন করতে জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সকলের সামনে নেতৃত্বের রোল মডেল হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমাদের রোল মডেল আমাদের ভূমিতে খুঁজতে হবে। আমরা বিদেশের কুকুর ধরি, স্বদেশের ঠাকুর ফেলে। আমাদের রোল মডেল, বিজ্ঞানী, নেতা, আমাদের দেশেই আছে। আগে দেশে খুঁজবো। পরে বাইরে যাবো।
তিনি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যে করে আরও বলেন, আপনারা একটি মহৎ বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। সাংবাদিকতা একটি সন্মানিত পেশা। এটিকে রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ বলা হয়। সংসদ, আইন ও আদালতের পরেই সাংবাদিকতাকে বিবেচনা করা হয়। সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের মতামত প্রকাশিত হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে জানা, শিখা ও সংশোধন হওয়া যায়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাবধান থাকতে হবে নতুনদের। কারণ আজ থেকে অনেক বছর আগে আমরা এভাবে জমায়াত হতে পারতাম না। নিজ ভূমিতে আমরা পরবাসী ছিলাম। আমাদের সব কাজে বাধা ছিল। তবে এখন তা নেই। এখন আমাদের বেড়ে উঠার সময়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আমরা আমাদের ভূমি পেয়েছি। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভূমি ফিরে পেয়েছি, তাদের স্মরণ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সবসময় স্মরণ করতে হবে। কেননা তার নেতৃত্বেই আমরা আমাদের ভূমি ফিরে পেয়েছি। আমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে। সব সময় সাবধান থাকতে হবে। এই ভূমিই আমাদের স্থায়ী ঠিকানা। এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় আমরা বিচরণ করবো। তবে দিনশেষে আমাদের স্থান নিজ দেশে।
তিনি বলেন, আমরা হয়তো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যেমন আশা করি তেমন নেই বলে মনে করি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের মনের মতো স্থানে যেতে পারছে না, বিশ্বমানের হতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের করতে সরকার তার সীমিত সম্পদে যতটুকু পারে ততটুকু সহায়তা করবে। শুধু আমরা চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা থাকবে, জ্ঞান অর্জন হবে, গবেষণা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশ উন্নত হচ্ছে। নতুনত্ব আসছে সব জায়গায়। বর্তমানে বাংলাদেশের চমৎকার সময়। আমাদের মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার বেড়েছে। তবে কিছু হুমকিও রয়েছে। কিছু কারণে যুব সমাজের মানসিকতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আমরা আশা করবো যুব সমাজ নিজেকে ধ্বংস ও জাতির ক্ষতি না করে বরং নিজেকে বিকশিত করার দিকে নজর দিবে।
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, চবি উপাচার্য প্রফেসর ড.শিরীণ আখতার, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ফরিদ উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম প্রমুখ।
এর আগে রজতজয়ন্তী উৎসব উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে দশটার দিকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে বিভাগটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সাড়ে এগারোটায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে রজতজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।