শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬

সূর্যসেনদের যুদ্ধস্মৃতির পাহাড় কেটে ফেলছে দুর্বৃত্তরা (ভিডিও)

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ


জাহিদ হাসান : চট্টগ্রামকে ব্রিটিশমুক্ত রাখার চেষ্টায় জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ সৈনিকদের বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে শহীদ হয়েছিলেন  ১৪ জন দেশপ্রেমিক বিপ্লবী যুবক। আহত হয়েছিলেন শতাধিক মুক্তিকামী তরুণ। ঐতিহাসিক জালালাবাদ পাহাড় সংরক্ষণ করা দূরে থাক, বরং ব্রিটিশবিরোধী লড়াইয়ের স্মৃতিবিজড়িত পাহাড়টির কিছু অংশ রাতের আঁধারে কেটে সমান করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

ঐতিহাসিক তথ্য মতে, ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধ হয়। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুট করার পর সূর্যসেন ও তার সহযোদ্ধারা জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নিলে গোপনে সংবাদ পেয়ে ব্রিটিশবাহিনী সেখানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায়।

এ যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শহীদ হন ১৪ জন বিপ্লবী। এদের মধ্যে হরিগোপাল বল (টেগরা), প্রভাস বল, নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেন, বিটু ভট্টাচার্য, মতি কানুনগো, অশোক দত্ত, নির্মল লালা, জিতেন দাশগুপ্ত, মধুসূদন দত্ত, পুলিন ঘোষ ও অর্ধেন্দু দস্তিদারের নাম উল্লেখযোগ্য।

এদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গত পাঁচদিন ধরে ঐতিহাসিক জালালাবাদ পাহাড়ের একাংশ কেটে ফেলেছে ঠিকাদার মোহাম্মদ জসীম, মনির ওরফে কালা মনির ও তাহের নামের তিনজনের একটি চক্র। পাহাড়টি জালালাবাদ মৌজার ২৩ নম্বর খতিয়ানের ২৭ নম্বর দাগের লোহাগাড়া হাউজিংয়ের মালিকানাধীন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, রাতের আঁধারে দুইটি এস্কেভেটর দিয়ে কাটা হয়েছে জালালাবাদ পাহাড়ের একাংশ। পাঁচদিনের চেষ্টায় পাহাড়টি এখন বিলীন হয়ে খোলা মাঠে পরিণত হওয়ার পথে।

তিনি বলেন, বাইরে থেকে কাউকে ওই এলাকার ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় ভেতরে ঠিক কী হচ্ছে বুঝা মুশকিল। কাটা অংশের আয়তন যে দিন দিন বাড়ছে তা অনেক দূর থেকে দেখা যাচ্ছে। এভাবে জালালাবাদ পাহাড়ের কিছু অংশ কেটে আবাসিক এলাকা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরীকে ‘ম্যানেজ’ করে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি প্রণব চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, এই বিষয়ে আমি অবগত নই। জসিম, মনির, তারেক তাদের কাউকেই আমি চিনি না। কেউ যদি বলে থানাটা আমি কিনে ফেলেছি, তাহলে আপনি কি বিশ্বাস করবেন। যে জায়গায় পাহাড় কাটা হয়েছে সেখানে আমি এখনই ফোর্স পাঠাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্ত একুশে পত্রিকাকে বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর যথেষ্ট তৎপর। আমাদের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক স্যার অসুস্থ থাকায় উনার বিকল্প কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আপনি (প্রতিবেদক) আমাকে ভিডিও এবং ছবিগুলো দিন, আমরা ব্যবস্থা নেবো।

জেএইচ/এসআর/এটি/একুশে