মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে গুরুত্ব দেয়া হয়নি বঙ্গবন্ধুকেই, দায়সারা আয়োজন বাফুফের

| প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৭:১৮ অপরাহ্ন


ঢাকা: বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরে মাঠের পারফরম্যান্স যেমন হতাশ করেছে দেশের সমর্থক থেকে বোদ্ধাদের; তেমনি মাঠের বাইরে কার্মকাণ্ডও। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই টুর্নামেন্ট যার মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গণে মুজিববর্ষের সূচনা হয়েছে। অথচ মর্যাদার এমন আসরেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি দেয়া হয়নি যথাযথ গুরুত্ব!

মানহীন দল এনে আগেই টুর্নামেন্টের জৌলুস নষ্ট করেছেন; তার ওপর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে মানুষকে বোকা বানিয়েছেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। টুর্নামেন্টের সাদামাটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে; প্রচার-প্রচারণা থেকে র‌্যালি আয়োজন সবখানেই অবহেলার ছাপ ছিল সুস্পষ্ট। এ যেন বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পায়তারা।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের আয়োজন থেকে দল নির্বাচন, র‌্যালি থেকে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স- সব দিক নিয়ে আজ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন নিয়ে বাফুফে কর্তাদের এক হাত নিয়েছেন রুহুল আমিন। বঙ্গবন্ধু শুধু একজন ব্যক্তি নন, বঙ্গবন্ধু একটি ইনস্টিটিউশন- তার নামে এমন আয়োজনে হতাশা প্রকাশ করেছেন রুহুল আমিন।

‘আমি বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু না থাকলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে কোনো ভূখন্ড থাকত না’- বক্তব্যের প্রারম্ভে এমন কথা বলেন ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমিন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী; ফুটবলের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দিয়ে জন্মশত বার্ষিকীর কার্যক্রমের শুরু। এমন টুর্নামেন্টে নিচুমানের এবং অপরিচিত দল এনে দায়সারা আয়োজন সত্যিই হতাশাজনক।’ এত তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কারণটা কী! দায়সারা গোছের টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বাফুফে তাদের নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়- প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন রুহুল আমিন।

‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কর্তৃক এই আয়োজন। বাফুফের মতো প্রতিষ্ঠান হয়েও আয়োজনে মুন্সিয়ানা দেখাতে ব্যর্থ। অথচ চট্টগ্রাম আবাহনী সাধারণ একটি ক্লাব। এই ক্লাব ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ’ আয়োজন করে দেশব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি করেছে, মরা ফুটবলে প্রাণের সঞ্চার করেছে, ফুটবলবিমুখ জাতিকে মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। এ ব্যাপারে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘গত বছরের শেষের দিকে আমরা শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি। একটি সফল আয়োজন ছিল সেটি। গ্যালারি ছিল দর্শকপূর্ণ। উন্নতমানের ক্লাবগুলো খেলে গেছে। ফুটবলের মানও ছিল বেশ উন্নত। একটি ক্লাব (চট্টগ্রাম আবাহনী) যদি এমন আয়োজন করতে পারে, বাফুফে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টকে কোন মানে নামিয়ে দিয়েছে।’

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একটি র‌্যালির আয়োজন করে বাফুফে। দুটি ঘোড়ার গাড়ি, সামনে একটি ব্যানার আর নিজেদের কিছু লোকবল নিয়ে বাফুফে ভবনের গলিতে সাধারণমানের এক র‌্যালি আয়োজন করে বাফুফে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর লোগো সম্বলিত ব্যানার থাকলে জাতির জনকের বড় কোনো পোস্টার ছিল না। সেখানে ছিলেন না কোনো ক্লাব সংগঠক কিংবা সাবেক ফুটবলার। এ বিষয়ে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা দেখলাম বাফুফে একটি র‌্যালির আয়োজন করেছে। যে র‌্যালিতে জেলা, বিভাগ, ক্লাব ফুটবলের কর্তারা কেউ ছিলেন না। সাবেক কোনো খেলোয়াড়দেরও সেখানে দেখা যায়নি। দায়সারাভাবে র‌্যালি করে বাফুফে আসলে কি বোঝাতে চাইছে আমার বোধগম্য নয়।’

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মানহীন দল এনেও প্রথম ম্যাচে জয়ের মুখ দেখতে পারিনি বাংলাদেশ। বাফুফে থেকে বলা হচ্ছে ফিলিস্তিন র‌্যাংকিংয়ের ওপরের সারির দল। কিন্তু যে দলটির কথা বলা হচ্ছে অর্থাৎ জাতীয় দল সেই দলটি এবারের টুর্নামেন্টে খেলতে আসেনি। গোল্ডকাপে অংশ নেয়া ফিলিস্তিন জাতীয় দলে খেলে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা মাত্র ৬ জন। বাকিরা বয়সভিত্তিক এবং ঘরোয়া লিগে খেলেন এমন খেলোয়াড়। আগামীকাল শ্রীলংকার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের। এই ম্যাচে হেরে গেলে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেবে লাল-সবুজরা। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের আয়োজনে যেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি, তেমনি জাতীয় দলের প্রস্ততিতে।

এ ব্যাপারে রুহুল আমিন বলেন, ‘এমন সময় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন করা হয়েছে যখন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এসএ গেমস, ফেডারেশন কাপ খেলে মোটামুটি ক্লান্তই বলা চলে। মাঠের পারফরম্যান্সে খেলোয়াড়দের ক্লান্তির ছাপ দেখা গেছে। জাতীয় দলের প্রস্ততি ঠিকঠাক হয়নি। গোল্ডকাপ শুরুর মাত্র ৭দিন আগে কোচ জেমি ডে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন।’ খেলোয়াড়রাও নিজেদের ক্লান্তির কথা লুকাননি। অনেকে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার ঘাটতির কথাও বলেছেন।

সামনে বাফুফের নির্বাচন। তা নিয়েই তোড়জোড় বাফুফের কর্তারা। মাঠে একটা নামকাওয়াস্তে টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ শুরু করেছে দিয়েছে, যেখানে যে কোনো উপায়ে কাপ জেতা চাই-ই চাই। খেলোয়াড়রা ক্লান্ত কিনা, অনুশীলন ঠিকঠাক হল না কিনা সেদিকে ভ্রক্ষেপ নেই। তাদের যে কোনো মূল্য কাপ চাই।

এ নিয়ে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘কাপ জিতুক সে নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু মানটা আরেকটু ভালো করা উচিত ছিল। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের মান নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনা হচ্ছে, গণমাধ্যমে এ বিষয়ে লেখালেখি হচ্ছে। সামনে বাফুফের নির্বাচন। আমাকে ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য লড়তে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নির্বাচিত হলে ফুটবলের মান উন্নয়নে কাজ করব। এতদিনেও যে ফুটবলের ভিত্তি তৈরি হয়নি সেটা নিয়ে প্রথমে কাজ করা হবে, এরপর ফুটবলের ডেভেলপমেন্টের দিকে নজর দেয়া হবে। গেল ১২ বছরে ফুটবলকে তলানীতে নিয়ে গেছে। ১৪২-৪৩ র‌্যাংকিং থেকে তারা কাজ শুরু করে বর্তমানে ১৮৭-তে গিয়ে ঠেকেছে।’

শুক্রবার শেষ হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল (ক্রিকেট) টুর্নামেন্ট। যার উদ্বোধনী থেকে সমাপনী অনুষ্ঠানে দারুণ মুর্সিয়ানা দেখিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই উদাহরণ টেনে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখেও তো শেখা উচিত ছিল বাফুফের।’