শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০, ২৮ চৈত্র ১৪২৬

‘চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলার রায় অতি উৎসাহী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দৃষ্টান্ত’

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০২০, ৯:১৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের আনন্দ মিছিল।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় পুলিশের গুলিতে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায় অতি উৎসাহী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে।

সোমবার বিকেল ৩টায় বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন উক্ত আদেশে দিয়েছেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর কোনো বাহিনী কিংবা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন অতি উৎসাহী হয়ে ভবিষ্যতে কোনো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে না পারে, এই মামলার রায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

আদালতের এ পর্যবেক্ষণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বড় মেসেজ বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী কাজী ছানোয়ার হোসেন।

চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— নগর পুলিশের কোতোয়ালী অঞ্চলের সাবেক টহল পরিদর্শক গোপাল চন্দ্র (জেসি) মণ্ডল, হাবিলদার প্রদীপ বড়ুয়া, কনস্টেবল মমতাজ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ। আসামিদের মধ্যে জেসি মণ্ডল পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে বন্দি।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শবু প্রকাশ বিশ্বাস বলেন, আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। পৃথক আরেকটি ধারায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেনের আদালতে উক্ত মামলায় আজ রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আদালত সোমবার আসামিপক্ষকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। তবে তারা এতে অংশ না নেয়ায় আজই রায় ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় সমাগত লোকজনের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে নেতা-কর্মীসহ ২৪ জন মানুষ নিহত হন। এটি পরে চট্টগ্রাম গণহত্যা নামে পরিচিতি পায়।

সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এই ঘটনায় করা মামলায় বিচার চলছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে। বিচার দেখে যেতে পারেননি মামলার বাদী। মারা গেছেন মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজন।

ঘটনার চার বছর পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী শহীদুল হুদা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদাসহ ৪৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর তদন্ত ও অভিযোগপত্র দিতেই পার হয়েছে আরও আট বছর। ২০০০ সালের ৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু।

উক্ত মামলায় ১৬৮ সাক্ষীর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড.অনুপম সেনসহ ৫৩ জনের সাক্ষ্য হয়।