
ইফতেখার সৈকত, চবি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘মিনার-ই-পাকিস্তান’ এর অনেক মিল রয়েছে-এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত বছরের মার্চ মাসে এই নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালের পহেলা মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড.ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরি ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়বাংলা ভাস্কর্যের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে এই শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় তখনকার উপ-উপাচার্য এবং বর্তমান উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার উপস্থিত ছিলেন। তখন সিদ্ধান্ত হয় বর্তমান শহীদ মিনারটি পুরোপুরি না ভেঙে নকশা ও স্থান সংকুচিত করে এটির উপরে বসানো হবে কংক্রিটের তৈরি জাতীয় পতাকা। এটির নতুন নাম দেওয়া হয় ‘বিজয় স্তম্ভ’। এদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রায় ১০ মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় বিতর্কিত শহীদ মিনারটি পড়ে আছে অকেজো হয়ে। শহীদ দিবস, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরসহ দেশের জাতীয় দিবসগুলোতে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় শহীদ মিনারটিতে কোনো সন্মান জানানো হয় না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোন শহীদ মিনার নেই বললেই চলে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, যেহেতু শহীদ মিনারটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে তাই প্রশাসনের উচিত শিঘ্রই প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করা।
এদিকে ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের প্রধান ফটক সংলগ্ন স্থানে ছাত্রীদের জন্য একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন উপাচার্য। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির মতো এই প্রকল্পটির কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যেই আটকে আছে। ছাত্রীদের জন্য কোনো মসজিদ না থাকায় অনেক সময় জিরোপয়েন্টে অবস্থিত বর্তমান মসজিদটিতে ছাত্র-ছাত্রীদের একসাথে নামাজ পড়তে দেখা যায়।
এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে দৃষ্টিনন্দন, মনোমুগ্ধকর, আধুনিক ও বিশ্বমানের ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ফিউশন ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর উদ্যোগে চ.বি. কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সম্মুখ লেকে ‘ফোয়ারা’ নির্মাণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প-১ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।এই প্রকল্পের কাজও অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, এভাবে প্রকল্পগুলো আটকে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।বর্তমান উপাচার্য ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক নন এমনটা দাবি করে প্রকল্পগুলো আটকে থাকার পেছনে উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারের টেন্ডার নিয়ে কাজ না করার মানসিকতাকেই দায়ী করছেন অনেকে।
এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নূর আহামমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে এ বিষয়টি নিয়ে তার বিশেষ জানা নেই জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ হোসেন বলেন, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প ও মসজিদের প্রকল্পের কমিটিতে আমি সভাপতি ছিলাম না। তবে শহিদ মিনার নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য প্রফেসর ড.শিরীণ আখতারের দপ্তরে গিয়ে এবং ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।