মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চবির ডিন নির্বাচন: হলুদ দলে বিদ্রোহীদের ছড়াছড়িতে ‘শঙ্কা’

| প্রকাশিতঃ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ৫:৩৬ অপরাহ্ন


চবি প্রতিনিধি : আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৮ অনুষদের ডিন নির্বাচন। এই নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা, যার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ-বামপন্থী শিক্ষক সমর্থিত হলুদ দলের ৭ বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঘিরে।

গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও এদিন হলুদ দল থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ সালাউদ্দিন, সাদা দল থেকে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে মো. সফিকুল ইসলাম ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ অছিয়র রহমান, ও হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এছাড়া সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হলুদ দলের অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী নির্বাচিত হয়েছেন। এতে ৭ অনুষদের ডিন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিন দলের ২১জন প্রার্থী। যেখানে আওয়ামী লীগ-বামপন্থী শিক্ষক সমর্থিত হলুদ দলের ছয়জন, বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সমর্থিত সাদা দলের তিনজন, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পাঁচজন এবং হলুদ দলের সাতজন বিদ্রোহী প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে থাকছে না কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এদিকে গত তিন বছর আগেই বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সমর্থিত সাদা দল বিভক্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম নামে আরেকটি পক্ষ নির্বাচন করে। এবারও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সমর্থিতরা দুই পক্ষে নির্বাচন করছেন। অপরদিকে এর আগে আওয়ামী লীগ-বামপন্থী শিক্ষক সমর্থিত হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও তা ছিলো অনেক কম। তবে এবার নির্বাচন করছেন হলুদ দলের সাত বিদ্রোহী প্রার্থী। যেটি নিয়ে হলুদ দলের শিক্ষকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরাতে দলের স্টিয়ারিং কমিটি গত দুই সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় আলোচনা করেও কোনো সমাধান বের করতে পারেনি। এতে করে নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন হলুদ দলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে দলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভেদের কারণেই ডিন নির্বাচনে হলুদ দলের সাত বিদ্রোহী প্রার্থী বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিকে হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ফলে বিজয় নিয়ে শঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন একাধিক জ্যোষ্ঠ শিক্ষক।

এ বিষয়ে হলুদ দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী যুগে যুগে ছিলো, এখনও আছে। এখন হয়তো একটু বেড়ে গেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও আমাদের প্রার্থীরা জয় পাবেন, আমরা সে বিষয়ে আশাবাদী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করছি কিভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যায়। আশা করছি একটি সুষ্ঠু সমাধান আসবে।

এদিকে ডিন নির্বাচন নিয়ে সাদা দলের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, যদি ভোটাররা বিবেক খাটিয়ে ভোট দেয় তাহলে আমরা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সঙ্গে আমরা বেশ কয়েকবার বসেছি। তবে এখন আমরা ভিন্নভাবে নির্বাচন করছি। আশা করি সমন্বয়ের বিষয়টি ধীরে ধীরে তৈরী হবে।

এদিকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, সাদা দলের সঙ্গে এখনো সমন্বয় করে কিছু করছি না। তবে ভবিষ্যতে আমরা সমন্বয়ের চিন্তা-ভাবনা করবো।

সাত অনুষদে প্রার্থী যারা:
কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে হলুদ দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

বিজ্ঞান অনুষদে হলুদ দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক বেনু কুমার দে, সাদা দল থেকে একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. শামছু উদ্দিন আহমদ, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। এছাড়া হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ডিন বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম, পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে সাদা দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শওকতুল মেহের, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এসএম নসরুল কদির মনোনয়ন পেয়েছেন। হলুদ দলের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এসএম সালামত উল্ল্যা ভূঁইয়া এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মামুন।

আইন অনুষদে হলুদ দল থেকে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নির্মল কুমার সাহা মনোনয়ন পেয়েছেন। হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান। তবে এ অনুষদে সাদা দল এবং জাতীয়তাবাদী ফোরামের কোনো প্রার্থী নেই।

জীববিজ্ঞান অনুষদে হলুদ দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন, সাদা দল থেকে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক ড. অলক পাল।

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে হলুদ দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদ মোস্তফা। এ অনুষদে সাদা দল ও জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রার্থী নেই।

মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদে হলুদ দল থেকে ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ-উন-নবী এবং জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. এম. মারুফ হোসেন মনোনয়ন পেয়েছেন। এ অনুষদে সাদা দলের প্রার্থী নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকতা কে এম নুর আহমদ একুশে পত্রিকাকে জানান, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ১০ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চবি শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে অগ্রিম ভোট দেওয়া যাবে।