মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চবিতে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি

| প্রকাশিতঃ ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ৩:০২ অপরাহ্ন


চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) লাগামহীনভাবে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন থেকে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাত দফা দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী দেওয়ান তাহমিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জহির সব্যসাচী, নাট্যকলা বিভাগের মুসফিক উদ্দীন, দর্শন বিভাগের জোবায়ের, রিটু রায় প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবৎ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের বন-পাহাড় উজাড় করে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। কাটার পর এসব গাছ রাখা ও পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে। বৃক্ষ নিধন করে প্রকৃতির উপর নির্মমতা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। প্রকৃতির পরম বন্ধু বৃক্ষ নিধন কখনোই সচেতন মানুষ মেনে নিতে পারে না। যারাই এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের এখনই না থামালে এ দুর্বৃত্তায়ন চলতেই থাকবে।

তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয়ের পাহাড় ও গাছ যেমন করে এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষা করে ঠিক তেমনভাবে এখানকার ভৌগোলিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এই ক্যাম্পাসে বসবাস করে শত শত বন্যপ্রাণী ও পশু-পাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে যেমন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে ঠিক তেমনি কমে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী ও পশু পাখি। তাছাড়া গাছ পরিবহনের জন্য কাটা হচ্ছে পাহাড়। এভাবে পাহাড় কাটতে থাকলে একদিন এই ক্যাম্পাস সমতল হয়ে যাবে। আর হারাবে তার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।

বক্তারা বলেন, বিগত ৩-৪ বছর ধরে যে হারে গাছ কাটা হচ্ছে দেখা যাবে আগামী ৫০ বছর পর এই ক্যাম্পাসের সব গাছ বিলীন হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৭ শতাংশ বনাঞ্চল রয়েছে। তার বেশিরভাগ চট্টগ্রামেই। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে যদি বৃক্ষনিধন বন্ধ না হয় তাহলে আগামী ১০ বছর পর শ্বাস নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

তারা আরও বলেন, বন খেকোদের গাছ কাটতে কোন দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। কিন্তু আমরা গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করতে লেগেছে প্রশাসনের অনুমতি। তাও আবার অনেক বার যাওয়ার পর। এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে গাছ কাটা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। আর যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ৭ দফা দাবি হলো, সৌন্দর্য বর্ধন, রাস্তা সম্প্রসারণ ইত্যাদি অজুহাতে ক্যাম্পাস সীমানার কোনো স্থানে প্রশাসন বা অন্য যেকারো উদ্যোগে কোনো গাছ কাটা যাবে না। গাছ কেটে ক্যাম্পাসে রাখার ও ক্যাম্পাসের উপর দিয়ে গাছ পরিবহণের অনুমতি দেয়া যাবে না। এটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। গাছকাটা প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে আরেকটি কমিটি করতে হবে এবং তা কার্যকর রাখতে হবে। ক্যাম্পাস সীমানার বাইরের বন-পাহাড়ে গাছাকাটা প্রতিরোধ ও জীববৈচিত্র রক্ষা করতে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আগামী এক বছরের মধ্যে ক্যাম্পাসের সমস্ত বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের তালিকা করতে হবে। তাদের সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে। মাটি, পানি, বাতাস তথা বনজ এলাকার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় কাঠের উদ্দেশ্যে কিংবা বিভিন্ন ধরনের বিদেশি সংস্থার ফান্ডিংয়ে ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি, মেহগনিসহ কোনো প্রকারের বিদেশি প্রজাতির বনায়ন করা যাবে না। অবৈধভাবে গাছকাটা ও তা পরিবহণের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতেও কেউ গাছকাটা ও পরিবহণের সাথে জড়িত হলে আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরে গাছ কাটার প্রতিবাদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাত দফা দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর একটি স্বারকলিপিও প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।