
চবি প্রতিনিধি : পূর্বের ঘটনার জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে ৭ জন।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সোহরাওয়ার্দী, শাহ আমানত ও শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তারা হলো- সংস্কৃত বিভাগের (১৮-১৯) সিমান্ত দাশ, দর্শন বিভাগের (১৯-২০) মেহেদী হাসান, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের (১৮-১৯) বেলায়াত আকতার ও আরিফ (একজন বহিরাগত)।
বিবাদমান দুটি পক্ষ হলো সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন অনুসারী কনকর্ড ও সিক্সটি নাইন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বিজয় গ্রুপ।
প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে বিজয় গ্রুপ এবং শাহ জালাল হলের সামনে কনকর্ড গ্রুপ অবস্থান নেয়। পরে তাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় বিজয় গ্রুপ সোহারওয়ার্দী হল থেকে এবং কনকর্ড গ্রুপ শাহাজালাল হলের সামনে থেকে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি এবং দেশিয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তপ্ত করে তুলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একাধারে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ৪ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এদিকে প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিরাজ করেছে থমথমে পরিস্থিতি। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সজাগ রয়েছে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে গত রোববার (১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের ২৩৮ নং রুমে থাকা কনকর্ডের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. বোরহানুল ইসলাম আরমানের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় আবির নামে ওই ছাত্রলীগ কর্মীর। পরে এ ঘটনার জের ধরে সোমবার রাত ১০ টার দিকে আবির (বিজয়ের কর্মী) শাটল থেকে নেমে হলে ফেরার পথে তার ওপর অতর্কিত হামলা করে বোরহান ও কনকর্ড গ্রুপের আরও কয়েকজন কর্মী। আবিরের ওপর হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাথমিকভাবে তাকে চবির মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হলেও পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান করে বিজয় গ্রুপ। আর ক্যাম্পাসে বিরাজ করে চাপা উত্তেজনা। দিনভর সবকিছু ঠিক থাকলেও সন্ধ্যায় সেই উত্তেজনা রূপ নেয় সংঘর্ষে।
একুশে/আইআই/এএ