
চবি: মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্যার এ এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের একাংশের হামলা থেকে বাদ যায়নি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কক্ষও। পরিচয় জানালেও শাখা ছাত্রলীগের একাংশের কর্মীরা চড়াও হয় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপর।
বুধবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১ টা ১০ মিনিটে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিবাদমান পক্ষগুলো হলো নগর মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন কনকর্ড ও সিক্সটিনাইন এবং শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিজয় গ্রুপ।
এই ঘটনায় ৫৭ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় এফ রহমান ও আলাওল হলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেইসঙ্গে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়,রাতে সিক্সটিনাইন ও কনকর্ডের কর্মীরা আচমকা আক্রমণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হল। দফায় দাফায় সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা দাওয়া ও হলের প্রায় ৫০টি রুম ভাংচুর করে তারা।
ছাত্রলীগের সহিংসতা থেকে যেমন রেহায় পাইনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তেমনি হামলার শিকার হতে হয়েছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরও।
সরজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের ৪০৮ নাম্বার রুমটিও ভাংচুর করা হয়েছে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায়। জানা যায়, রুমটিতে থাকতেন মোঃ শিহাব নামে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী । তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার রাতে যখন হলে চলছিলো ছাত্রলীগের একাংশের তাণ্ডব তখন শিহাব ও তার কয়েকজন বন্ধু একটা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় প্রতিবন্ধী বলে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করলেও ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের রুম ভাংচুর করে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। আমরা পরিচয় দিলেও রুম ভাংচুর করে। যা আমাদের হলে থাকতে ভয়ের তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন না অন্যকিছু করতে আসেন? তিনি বলেন,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হোক। এধরণের সন্ত্রাসবাদ মোটেও কাম্য নয়। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলে। এঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলেও জানান এই শিক্ষার্থী।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের রুম ভাংচুরের বিষয়টি আমরা শুনেছি। এটি মোটেও কাম্য নয়। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এদিকে গতকাল রাতে দফায় দফায় ছাত্রলীগ সংঘর্ষের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। রাত থেকে এ এফ রহমান হলে মোতায়ন করা হয় পুলিশ। আর এমন থমথমে পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোতায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।