রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬

মাশরাফির শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ৬, ২০২০, ১০:২০ অপরাহ্ণ


ঢাকা: অধিনায়ক হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে খেলে ফেললেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর এই ‍দুর্দান্ত জয় পেয়ে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। শুক্রবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে বৃষ্টি আইনে ১২৩ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৬৯ রানে ও দ্বিতীয় ৪ রানে জয় পেয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে রেখেছিল মাশরাফির দল।

মাশরাফি টেস্ট ক্রিকেট খেলেন না দীর্ঘদিন ধরে। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। এবার অধিনায়ক হিসাবে ওয়ানডে ম্যাচ থেকেও বিদায় নিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। তবে, সামনে তাকে সাধারণ খেলোয়াড় হিসোবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে দেখা যেতে পারে।

এদিন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দেয়া ৩৪২ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩৭.৩ ওভারে ১২৮ রান করে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন সিকান্দার রাজা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একাই নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া মাশরাফি ১টি, তাইজুল ২টি, আফিফ ১টি, মোস্তাফিজ ১টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে বাংলাদেশ করে ৩২২ রান। তবে, ডি/এল পদ্ধতিতে জিম্বাবুয়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪২ রান। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এর আগে কোনো দলকে এত রানের টার্গেট দিতে পারেনি। গত বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৩১ রানের টার্গেট দিয়েছিল টাইগাররা। এর আগে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ।

সিলেটে এদিন অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন তামিম ও লিটন। প্রথমত, ১৭৬ রানের ইনিংস খেলে লিটন হয়ে গেছেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক। ১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১৭৬ রান করে আউট হন লিটন। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে লিটন করেছিলেন ১২৬ রান। ওয়ানডেতে লিটনের এখন সেঞ্চুরির সংখ্যা তিনটি।

গত ৩ মার্চ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ১৫৮ রান করে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন। ওই ইনিংস খেলার পর তিনি হয়ে গিয়েছিলেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক। কিন্তু তার এই রেকর্ড তিন দিনও টিকল না।

এই ম্যাচে তামিম ও লিটন ২৯২ রানের জুটি গড়েন। রানের জুটিতে হয়েছে আরেকটি বড় রেকর্ড। ওয়ানতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এর রানের জুটি গড়তে পারেনি কেউ। এর আগে ২২৪ রান করে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সাকিব-রিয়াদ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জিতিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, তামিম এদিন ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছেন। ১০৯ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১২৮ রান করে অপরাজিত থাকনে তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ১৩তম সেঞ্চুরি। এর আগে গত ৩ মার্চ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম করেছিলেন ১৫৮ রান।

এদিন টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় সফরকারীরা। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলতে থাকেন তামিম-লিটন। ৩৩.২ ওভার খেলা হওয়ার পর বৃষ্টি নেমেছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর আবার খেলা শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে ওভার কমিয়ে ৪৩ ওভার করা হয়। বৃষ্টির আগেই সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন। বৃষ্টির পর করেন তামিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: বৃষ্টি আইনে ১২৩ রানে জয়ী বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ইনিংস: ৩২২/৩ (৪৩/৪৩ ওভার)

(তামিম ১২৮*, লিটন ১৭৬, মাহমুদউল্লাহ ৩, আফিফ ৭*; মুম্বা ৩/৬৯, টিশুমা ০/৪৮, সিকান্দার ০/৬৪, মাধিভেরে ০/২৯, তিরিপানো ০/৬৫, উইলিয়ামস ০/৪৬)।

জিম্বাবুয়ে ইনিংস: ২১৮ (৩৭.৩ ওভার)

(কামুনহুকামউই ৪, চাকাভা ৩৪, ব্রেন্ডন টেইলর ১৪, উইলিয়ামস ৩০, মাধিভেরে ৪২, সিকান্দার, মুতুম্বামি ০, মুতোমবোদজি ৭, তিরিপানো ১৫; মাশরাফি ১/৪৭, সাউফউদ্দিন ৪/৪১, মিরাজ ০/৪৭, মোস্তাফিজ ১/৩২, আফিফ ১/১২, তাইজুল ২/৩৮)।

ম্যাচ সেরা: লিটন দাস (বাংলাদেশ)।