বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পরীক্ষামূলক ওষুধ দিয়ে করোনা চিকিৎসা শুরু করল ‘হু’

প্রকাশিতঃ শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০, ৭:২৬ অপরাহ্ণ


ঢাকা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের পরীক্ষামূলক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার জন্য রোগী নরওয়ে এবং স্পেন থেকে বেছে নেয়া হয়েছে। ‘হু’ এ ওষুধকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কোভিড-১৯ বিরোধী লড়াইয়ের জন্য সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল চার ওষুধকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে জানান ‘হু’এর কর্মকর্তারা। এ সব ওষুধের মধ্যে রয়েছে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্লোরোকুইন এবং হাইড্রোঅক্সিক্লোরোকুইন, ভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদান রেমডেসিভিয়ার, লোপেনেভিয়ার এবং রিটোনেভিয়ার সমন্বয়ে তৈরি এইচআইভি বিরোধী ওষুধ, এ ছাড়া, ইন্টারফেরন বেটা মিশ্রিত এ সব ওষুধের সমন্বয়ে গঠিত ওষুধ।

ফরাসি এক ক্ষুদ্র স্বাস্থ্য-সমীক্ষায় দেখা গেছে যে কয়েক দশকের পুরনো ওষুধ ক্লোরোকুইন এবং এ থেকে তৈরি হাইড্রোঅক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগে করোনাভাইরাসের রোগীর সেরে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়তা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফরাসি এ সমীক্ষার মধ্য দিয়ে এ ওষুধের ব্যবহারের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এটি নিয়ে আরও বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

গিলিয়েড সায়েন্সেসের তৈরি রেমডেসিভিয়ার ওষুধ প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কিছু কিছু স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য হলও, এটি প্রয়োগে করোনা রোগীর ভাইরাসে আক্রান্তের সময়কাল কিছুটা হলেও কমবে।

কোভিড-১৯’এর চিকিৎসার জন্য এখনও কোনও নিশ্চিত ওষুধ পাওয়া যায় নি। ‘হু’এর এমারজিং ডিজিজেজ অ্যান্ড জুনোসিস নতুন ব্যাধি এবং প্রাণী থেকে মানব দেহে সংক্রমণ যোগ্য ব্যাধি সংক্রান্ত ইউনিটের প্রধান ড. মারিয়া ভান কেরখোভ বলেন, অনেক ওষুধেরই ক্নিনিক্যাল বা রোগীর ওপর পরীক্ষা চলছে। সঠিকভাবে এ সব ওষুধের মূল্যায়ন করাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কোভিড -১৯’এর চিকিৎসায় কার্যকর প্রমাণিত হয় নি এমন সব ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ‘হু’ কর্মকর্তারা। তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনও ওষুধের নাম উল্লেখ করেন নি তবে অনেক দেশেই পরীক্ষামূলক ভাবে এজিথ্রোমাইসিনের সাথে ক্লোরোকুইন মিশিয়ে কোভিড-১৯’এর রোগীকে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে কোভিড-১৯’এর বহুল প্রতীক্ষিত টিকা বাজারে আসতে আরও ১২ থেকে ১৮ মাস দেরি হবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, খবরে কোনও ওষুধকে সুফলদায়ক হিসেবে উল্লেখ করার ভিত্তিতে তা কখনও কোনও রোগী যেন নিজে তা প্রয়োগ, ব্যবহার বা সেবন না করেন। এতে জীবন-মরণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। কেবলমাত্র বিজ্ঞ চিকিৎসকই ওষুধ ব্যবহারের ব্যবস্থাপত্র বা পরামর্শ দিতে পারেন – এ কথা কখনও ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না।