রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

চিকিৎসকই তুলে ধরলেন চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতের বিভীষিকা

| প্রকাশিতঃ ২৯ মে ২০২০ | ১:৪৮ অপরাহ্ন

একুশে প্রতিবেদক : খোদ চিকিৎসকই তুলে ধরেছেন মুখ থুবড়ে পড়া চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতের বিভীষিকা। ‘বিভীষিকাময় চট্টগ্রাম’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে জানিয়েছেন করোনা-মোকাবিলায় চট্টগ্রামের দুর্বল প্রস্তুতি ও চিকিৎসাখাতের করুণ হালচাল।

আলোচ্য চিকিৎসকের নাম ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মেধাবী এ সন্তান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটর সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরীর ছোটভাই। এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার (মেডিসিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে ২০১৪-১৫ সালের দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি রেজিস্টার ছিলেন।

বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জন থেকে এফসিপিএস করা ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ যুক্তরাজ্যের লিভারপুল স্কুল অ্যান্ড ট্রপিকেল মেডিসিন থেকে ট্রপিকেল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস-এর উপর এমএসসি ডিগ্রি নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে দেশে ফিরেই যোগ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মানুষসেবায় অন্ত:প্রাণ এই চিকিৎসক প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। এর বাইরেও প্রতিদিন ফোনে, হোয়াটসআপে স্বজন-শুভার্থী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষকে দিচ্ছেন টেলিমেডিসিন সেবা। দিচ্ছেন সাহস, দিকনির্দেশনা এবং টেলিফোনে অনুরোধ করে ক্ষেত্রবিশেষে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থাও করছেন সাধ্যমতো।

’আই অ্যাম এ পিজিশিয়ান, আই অ্যাম কমিটেড টু সার্ভ মাই পেশেন্ট’ এই প্রত্যয়ে অহর্নিশ মানুষের সেবায় নিয়োজিত সেই চিকিৎসকই চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতের করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন একবুক কষ্ট নিয়ে। চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকদের মানসিক দৈন্যদশা উঠে এসেছে সেই পোস্টে। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ১ টা পর্যন্ত ওই স্ট্যাটাসে ১১১ জন মন্তব করেছেন। এক হাজারেরও বেশি ‘লাইক’ পড়ার পাশাপাশি শেয়ার করেছেন ২১৭ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী।

পোস্টটিতে ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ লিখেছেন, একমাস আগের কথাও না, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সাতকানিয়া থেকে ১৮ দিন যাবত কোয়ারেন্টিনে থাকা ৬ জন মানুষকে অনেকটা জোর করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। তারও ১০-১২ দিন পর আমি অনেকজনকে কাকুতিমিনতি করে তাদের ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করি। আর আজ চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালও সিটের অভাবে রোগী ভর্তি নিচ্ছে না।

ডা. মারুফ লিখেন, চট্টগ্রামে আমার একজন ফুফা এবং একজন কলিগের মামাকে আজকে হাসপাতালে সিটের অভাবে ভর্তি করা যায়নি। একজন স্বনামধন্য প্রফেসর উনার একজন নিকটাত্মীয়কে চট্টগ্রাম থেকে আজ শেষপর্যন্ত ঢাকায় নিয়ে আসছেন। আরো কয়েকজন ঢাকার পথে।

মারুফের অভিযোগ, চট্টগ্রামের বেসরকারি ক্লিনিকগুলো আজকে সাধারণ মানুষের এই নিদারুণ অসহায় সময়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। অথচ দিনের পর দিন এরা দেদারসে ব্যবসা করেছে সাধারণ মানুষকে পুঁজি করেই। আজ অন্তত ১০ জনকে বাসায় অক্সিজেন দিতে বলেছি। হোয়াটসঅ্যাপে ফলোআপ করছি। সামনের সময় আরো অনেক কঠিন। যেসময়টাতে সঠিক প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিলো তখন সবাই পরস্পর কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত ছিলাম!

করোনা আগমনের প্রায় ৩ মাস হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এখনো ভালোমতো ৩০০ টি বেডের ব্যবস্থা হয়নি। চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ বা সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এটার দায় এড়াতে পারেন না। একবার চিন্তা করেছেন আপনার বাবার নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো, আর আপনি দ্বারে দ্বারে ভর্তির জন্য হাসপাতালে হাসপাতালে ভিক্ষা করছেন! লিখেন ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ।