
জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত : সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে, ভাস্কর্য নির্মিত হলে তা বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক।
বিতর্কিত সেই মামুনুল হককে আল আমিন সংস্থা নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে কৌশলে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ সংক্রান্ত ছাপানো পোস্টার-লিফলেটে সংবর্ধনার কথা উল্লেখ না করলেও ‘মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম’ নামের সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে তার আইডি থেকে প্রকাশ্য সংবর্ধনার ঘোষণা দিতে দেখা গেছে।
মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিজের ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন ‘আগামি জুমাবার আল্লামা মামুনল হককে গণসংবর্ধনা দিতে প্রস্তুত হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা। আলহামদুলিল্লাহ সেভাবেই প্রস্তুতি চলতেছে, চট্টগ্রামের সমস্ত নাস্তিকদের দালাল এবং ছাত্রলীগকর্মীদের বলা হচ্ছে, আল্লামা মামুনুল হককে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে হাটহাজারীর ছাত্ররা নিয়ে আসবো। সাহস থাকলে বাধা দেয়ার জন্য সামনে আসিও, ইনশাআল্লাহ লড়াই হবে। হাটহাজারীতে কোনো আওয়ামী লীগের অফিস থাকবে না।’
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র দাবিদার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের এমন মারমুখী ঔঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘোষণায় কথিত মাহফিল ও সংবর্ধনাকে ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।
এ সংক্রান্ত পোস্টারে দেখা গেছে, আগামী তিন দিনব্যাপী (২৫, ২৬, ২৭ নভেম্বর) আলোচ্য মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে রাখা হয়েছে মাওলানা মামুনুল হককে। একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নবনির্বাচিত আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে, বিতর্কিত ইসলামী বক্তা মামুনুল হককে সংবর্ধনার নামে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রের হুমকি সম্পর্কে জানতে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তার পিএস পরিচয়দানকারী ব্যক্তিটি ফোন ধরে প্রতিবেদকের কাছে কী বিষয়ে কথা বলবেন জানতে চান। তৃতীয় ফোনে আলোচনার বিষয়টি অবহিত করার পর কিছুক্ষণ লাইনে রেখে অপরপ্রান্ত থেকে পিএস পরিচয় দেওয়া লোকটি জানান ‘হুজুর’ এ বিষয়ে কথা বলবেন না।
এরপর হেফাজতে ইসলামের মুখপাত্র ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীর নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয় কিন্তু তিনিও ফোন ধরেননি।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও ধর্মের নামে উগ্রবাদী হুমকি দেওয়ায় বিতর্কিত মামুনুল হককে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সুযোগ সন্ধানী তৃতীয় একটি পক্ষ হুজুরকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। এই অনুষ্ঠানে তাফসীরুল কুরআনের আলোচনা হবে। সংবর্ধনার সাথে আমাদের মাহফিল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই মাহফিল গত বছরর নভেম্বর থেকে নির্ধারিত আছে। যাদের বক্তা ও অতিথি করা হয়েছে তাদেরও সেসময় দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তারা সেই দাওয়াতে গ্রহণ করে এই মাহফিলে উপস্থিত থাকবেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য করার বিষয়টি আমাদের সাইবার ক্রাইম ইউনিট দেখবে। আর অনুষ্ঠানকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে।’