চট্টগ্রাম: রাত জেগে নিজ হাতে প্ল্যাকার্ড বানানো। ককসিট কেটে বর্ণমালা তৈরি। ফুল দিয়ে পুষ্পস্তবক তৈরি। এসব কাজ করেছেন মোহরা মুজিব সৈনিকের নেতাকর্মীরা। উদ্দেশ্যে মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ।
সব প্রস্তুতি শেষে মঙ্গলবার ভোরে একুশের প্রভাতফেরিতে অংশ নেন মোহরা মুজিব সৈনিকের নেতাকর্মীরা। খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার মোহরার ইস্পানি জুট মিল এলাকায় স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।
প্রভাত ফেরিতে আসা মোহরা মুজিব সৈনিক সংগঠনের আহ্বায়ক আসফাক হোসাইন খান বলেন, ‘প্ল্যাকার্ড, ককসিটের বর্ণমালা ও পুষ্পস্তবক- চাইলে আমরা এসব কিনে নিতে পারতাম। কিন্তু ভাষা শহীদদের প্রতি ভালোবাসার টানে এসব কাজ আমরা নিজেরাই করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একুশে ফেব্রুয়ারির অর্জন নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভুগি। কিন্তু এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি। উচ্চ আদালতে এখনো বাংলার প্রচলন শুরু হয়নি। ’
‘ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে অনেকেই রাত ১২টা এক মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দিচ্ছেন। এই সংস্কৃতি একুশের চেতনার সঙ্গে যায় না। এভাবে প্রভাতফেরির সংস্কৃতি আমরা নষ্ট করে দিচ্ছি।’ যোগ করেন আসফাক হোসাইন খান।
মোহরা মুজিব সৈনিক সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তানিম বলেন, ‘বাঙালির একুশে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে ভোরে খালি পায়ে প্রভাতফেরি আর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’ গান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।’
প্রভাত ফেরিতে অংশ নেন মোহরা মুজিব সৈনিক সংগঠনের আহ্বায়ক আসফাক হোসাইন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তানিম, মোঃ আসাদুজ্জামান, সদস্য জুমলাত বেরি, ইরফান উদ্দিন মুন্না, মোঃমোর্শেদ, মারুফ রকি, রাজিব পাল, সাজ্জাদ আলম, নবীউল আলম জামশেদ, ইয়াছিন ইফাদ, মোঃসাদ্দাম হোসেন, মোঃশাহিন, সাজ্জাদ হোসেন, আকিব রিয়াদ, মোঃ জামিল, অয়ন বড়ুয়া, মোঃ ফয়সাল, সজিব পাল, নুরুদ্দিন জুয়েল, মোঃ লোকমান গনি, রাজীব রাজু, মোহাম্মদ নিহাব, সামজেদ হাসান প্রমুখ।
প্রভাতফেরিতে আসাদের শোক আর শ্রদ্ধার সাথে মিশে ছিলো দৃঢ় প্রত্যয়। সব বাধা ছিন্ন করে এগিয়ে যাবে এই দেশ। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বিশ্বের বুকে। কারণ একুশ মানে তো মাথা নত না করা।