
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় যাননি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) আলোচনা সভা এবং বিকাল ৩টায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অডিটরিয়ামে স্মরণসভার আয়োজন করে মহানগর আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে দলের সকল নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকতে আগে থেকেই অনুরোধ জানান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।
নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আইসিসিতে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
অন্যদিকে বিকালের স্মরণসভায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
মুখ্য আলোচক হিসেবে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, চসিক মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন অংশ নেন।
তবে লক্ষনীয় ব্যাপার হচ্ছে, এই দুই স্মরণসভার একটিতেও অংশ নেননি খোরশেদ আলম সুজন।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর একসময়ের ছায়াসঙ্গী ও ঘনিষ্ঠ সহচর সুজনের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় নেতাকর্মীরা হয়েছেন হতবাক। দলের সিনিয়র নেতারাও বিষয়টিকে ভালভাবে নেননি। এ ঘটনায় জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
এই প্রশ্নে একুশে পত্রিকার কাছে মুখ খুলেছেন খোরশেদ আলম সুজন। এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে সুজন বলেন‘ মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমেই আমরা আজকের দিনটা শুরু করেছি। কবরের জিয়ারত কি উপস্থিতি নয়? মহিউদ্দিন চৌধুরী যেখানে বসে অফিস করতেন, সেখানে বসে আমি আজ সারাদিন অফিস করেছি। এসব কেউ দেখছে না?
তিনি বলেন, ‘আর নগর আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে যাওয়াটা ম্যান্ডাটরি নয়। সিটি করপোরেশনে আমার যে দায়িত্ব রয়েছে তা আমাকে পালন করতে হবে। যারা মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকতে তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন তারা আজ উনার সুনাম করতে ব্যস্ত। মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় উপস্থিত না হওয়া যদি আমার ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমি কানে ধরে মাফ চাইছি।’
এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, শুধু এই স্মরণসভাই নয় দলের গত বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশেও উপস্থিত ছিলেন না খোরশেদ আলম সুজন।
সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম. নাছির উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, শুধু এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় যে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন তা নয়, নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায়ও আসেননি। এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্যবিরোধী বক্তব্য ও কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা এবং বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচিতেও তিনি ছিলেন না।’
তিনি বলেন, ‘দলীয় সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি আমাকেও মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সেসময় আমি দলীয় সকল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছি। মেয়র থেকে আমি যদি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারি তাহলে প্রশাসক হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে না পারার যৌক্তিক কারণ আমি দেখছি না।’
সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘কেন বা কী কারণে তিনি উপস্থিত থাকছেন না সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি যতটুকু জানি উনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। সেই কারণেই দল থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে উনার উপস্থিত থাকা উচিত বলে মনে করি।’