লন্ডন পুলিশের প্রধান হতে যাচ্ছেন সন্ত্রাস দমন বিষয়ে অভিজ্ঞ ক্রেসিডা ডিক। লন্ডন পুলিশের ১৮৮ বছরের ইতিহাসে ৫৬ বছর বয়সী ডিক প্রথম নারী, যিনি লন্ডন পুলিশের প্রধান হতে যাচ্ছেন।
ক্রেসিডা ডিক বার্নার্ড হোগান-হোর স্থলাভিষিক্ত হবেন। পাঁচ বছর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে দায়িত্ব পালনের পর এ মাসেই দায়িত্ব ছেড়েছেন হোগান।
ক্রেসিডা ডিক বলেছেন, ‘আমি শিহরিত, সম্মানিত বোধ করছি। এটি একটি মহান দায়িত্ব, একটি অসাধারণ সুযোগ।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, অক্সফোর্ড থেকে ডিগ্রি নেওয়া ডিক ১৯৮৩ সালে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে কনস্টেবল পদে যোগ দেন। ২০১৫ সালে দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি লন্ডন ও অক্সফোর্ড পুলিশের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে লন্ডনে অলিম্পিক গেমস চলার সময় তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালকও করা হয়েছিল।
নতুন দায়িত্বে ডিককে লন্ডন পুলিশের প্রায় ৪৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামলাতে হবে। এঁদের জন্য বার্ষিক বরাদ্দ ৩০০ কোটি পাউন্ডের বেশি।যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরের সময় বিক্ষোভকারীদেরও সামলাতে হবে নতুন পুলিশ কমিশনারকে। ট্রাম্পের সফরের বিরোধিতা করে পুরো যুক্তরাজ্যেই উত্তেজনা চলছে বলে জানা গেছে।
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রেসিডা ডিকের নেতৃত্বে এক অভিযানে এক ব্রাজিলীয় যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ লন্ডনের স্টকওয়েল আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী ভেবে ২৭ বছর বয়সী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি জন চার্লস দে মেনেজেসকে গুলি করে পুলিশ। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, চার্লসকে তারা জঙ্গি হুসেইন ওসমান ভেবে গুলি করেছেন। ওসমান ও মেনেজেস একই বাসায় থাকতেন। ওই অভিযানের আগের দিন ওসমানসহ চার জঙ্গি লন্ডনের ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক ও পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।