শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

যুদ্ধটা বিএনপির, করলেন শাহাদাত

| প্রকাশিতঃ ৩১ জানুয়ারী ২০২১ | ৪:০৭ অপরাহ্ন


হোসাইন সাজ্জাদ : বিএনপি যেভাবে চলছে, নির্বাচনে লড়ছে, তাতে কেবল দলীয় প্রার্থীকে মাঠে ছেড়ে দিয়েই তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন হবে এমনটা আশা নিয়ে বসে থাকলে বিএনপির রাজনৈতিক পুনর্বাসন হবে না। ক্ষমতা তো বহুদূর। শুধু নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েই যদি রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় সেটাও বেশিদিন সম্ভব হবে না। আর এভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেই দলের সব কর্মসূচি সফল হবে না।

জনগণ তাদের কাছে কী চায় তা দেখতে হবে। দলের এই অসহায় অবস্থা যারা সাধারণ সমর্থক, তাদেরকে দিন দিন দূরে ঠেলে দিচ্ছে বিএনপির বলয় থেকে। তা থেকে যা প্রমাণ হয়- দল হিসাবে বিএনপির অবস্থান একেবারে নড়েবড়ে হয়ে গেছে। যারা সমর্থক তারা যদি কোনো ভরসার জায়গা না দেখে তাহলে এটা বিএনপির জন্য অশনি সঙ্কেত।

আর বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতা সামাল দেওয়ার জন্য যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপির সেসব নেতাদের অবস্থা এখন ত্রাহি মধুসূধন। না পারছে সামনে যেতে। না পারছে পিছনে যেতে। বিএনপি শুধু মনোনয়ন দিয়েই তাদের দায় সারছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে, যেখানে ডা. শাহাদাতের পক্ষে সম্ভব হয়নি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা। সেটা বাদ দিলেও কোনো ওয়ার্ডে তাদের এমন কোনো প্রার্থী দেখা গেল না যার পক্ষে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। কোনো সঠিক লক্ষ্য থাকলে নিশ্চয়ই এমনটা হবার কথা ছিল না। নির্বাচনের মাঠে যেভাবে নিজেদের অসহায়তা প্রকাশ করছে সেটা একমাত্র যুক্তিসঙ্গত কারণ হতে পারে না।

নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি বলেছে- যেখানে নির্বাচনই হয়নি সেখানে প্রত্যাখ্যানের কিছু নেই। যদিও তারা বলেছে গণতন্ত্রে বিশ্বাস রেখেই নির্বাচন করেছে বিএনপি- সেহেতু গণতন্ত্রের জন্য প্রকৃত অর্থে তাদের মাঠে নামতে হবে।

ডা. শাহাদাতের যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সেটাকে বাস্তবায়ন করতে হলে বিএনপির প্রকৃত সহায়তা দরকার। বিএনপির যে অবস্থা- প্রার্থীর দিকে তাকিয়ে যদি আশা করে তরি তীরে ভিড়বে, তাহলে কঠিন পরিস্থিতি হবে। সেক্ষেত্রে গণতন্ত্রের নামে টিকে থাকার লড়াই দিন দিন দুর্বল হয়ে ওঠবে। গণতন্ত্র দূরে থাক বিএনপি বরং বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এরকম সাংগঠনিক শক্তি না থাকলে প্রার্থীর উপর ভরসা করে কোনো লাভ নেই। এতে ডা. শাহাদাতের মত নেতাদের জনপ্রিয়তা নি¤œমুখী হচ্ছে বিএনপির দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে।

শুধু এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই নয়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ডা. শাহাদাত। তখন কারাগারে থেকেই নির্বাচন করেন তিনি। সেই নির্বাচনেও হেরে যান আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে। এরপর চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচনে এলেন তিনি। ফলাফল সেই একই।

বিএনপি যদি রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে তাহলে, ভোটের মাঠে কিছু প্রার্থীকে ছেড়ে দিয়ে কোনো লাভ হবে না। রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো মানে সাংগঠনিক ভিত মজবুত হওয়া।

এই জনগণ আর কখনো আন্দোলনে যুক্ত হবে- এ রকম ভরসা করার দিন এখন নেই। এখানে প্রধান বিষয় হচ্ছে – জনগণের রাজনীতিবিমুখতা। সময় বুঝে মানুষ রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতে চাচ্ছে না। হয়ত এই প্রয়োজনীতা মানুষের ফুরিয়ে গেছে। অন্তত নির্বাচনগুলো সেই আভাস দিচ্ছে।

বিএনপি যদি যথার্থই রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে না চায়. তাহলে রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ না করে টোটকা দিয়ে কোনো কিছু হবে না। তাদের সেই পরিকল্পনার জায়গাটা যে রুক্ষ হয়ে উঠেছে, ফাঁপা হয়ে উঠেছে- তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সে জায়গা থেকে বের হতে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে সেটা যেমন ঠিক আছে- নির্বাচনের মাঠে বিএনপি কীভাবে বিচরণ করবে, সেটা নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে তাহলে ধীরে ধীরে এগোতে পারলেও মন্দ হবে না।

এভাবে অপ্রকৃতিস্থ এবং বিভ্রান্ত অবস্থার অবসান ঘটাতে না পারলে কোনো ফলাফল আসবে না। সমান সমান মাঠ তৈরি করতে হবে বিএনপিকে। সে যদি সময়সাপেক্ষ হয়, তাহলেও। সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে। প্রতিটি নির্বাচন থেকে যেন তাদের অন্তত কিছুটা অর্জন করতে পারে।