
চট্টগ্রাম : করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে (সিএমপি) মাস্ক উপহার দিয়েছে হোটেল সেন্ট মার্টিন লিমিটেড। কিন্তু এই উপহার প্রদানের সময় মাস্ক পরবননি তারা নিজেরাই!
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীরের হাতে এসব মাস্ক তুলে দেওয়া হয়। মাস্ক ছাড়াই এমন উপহার গ্রহণে পুলিশের ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এ প্রসঙ্গে হোটেল সেন্ট মার্টিন লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন্স) ইঞ্জিনিয়ার আসিফ ইসতিয়াক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা যখন সিএমপি পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম তখন আমরা সকলেই মাস্ক পরে প্রবেশ করেছি এবং অবস্থান করেছি। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে সকল ছবির মধ্যে ভালো ছবিগুলো দেওয়ার ক্ষেত্রে মাস্ক ছাড়া ছবিটা দেওয়া হয়েছে। তবে ছবি তোলার সময়ও আমাদের মুখে মাস্ক ছিল। কিন্তু শেষের দিকে হয়তো তারা মাস্ক খুলে ফেলেছিলেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু যে সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক তা নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও মাস্ক পরিধান করার উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। তাই এই বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা যৌক্তিক। বিষয়টা আমাদের দেখিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে যে মাস্ক পরা হয়নি তা নয়। এটা একটা ভুল মাত্র।’
গণমাধ্যমে প্রেরিত ছবিতে দেখা যায়, সিএমপি সদস্যদের জন্য ১০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক উপহার দিচ্ছিলেন হোটেল সেন্ট মার্টিন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম জাকির হোসেন মিজান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ। কিন্তু তাদের কারও মুখেই নেই মাস্ক!
অথচ মাস্ক গ্রহণের সময় ঠিকই মাস্ক পরেছিলেন সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, উপ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক।
মাস্ক ছাড়াই এমন উপহার গ্রহণে পুলিশের নো মাস্ক, নো সার্ভিস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাস্ক ছাড়াই মাস্ক উপহার গ্রহণ ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতির পরিপন্থী কিনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সেরকম যদি কিছু হয়ে থাকে অবশ্যই পরিপন্থী। তবে ওই অনুষ্ঠানে সিএমপির যেসব কর্মকর্তা ছিলেন, তাদের সবার মুখে মাস্ক ছিল। যারা মাস্ক দিতে এসেছিলেন তাদের দুইজনের মুখে মাস্ক ছিল না। এখন এ নিয়ে কী আর বলার আছে!’