
বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে বহদ্দারহাটে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফুটপাতে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় সেই দোকানগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
একই অভিযানে শুলকবহর এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল ফুটপাত ও নালাদখল করে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির দায়ে ৪ জনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তবে একই সময় ভিন্নচিত্র দেখা যায় লালদীঘি জেলরোডের ফুটপাতে। এক্ষেত্রে ফুটপাতের উপরই সাজানো হয়েছে নতুন দোকান। আর সেই দোকানের মালিক চসিক নিজেই!
আর এই নার্সারিটি যে একদিনে নির্মাণ করা হয়েছে এমনটা নয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ববিভাগ থেকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঘটা করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্মিত হয়েছে এই নার্সারি।
চসিক সূত্রে জানা যায়, এই নার্সারির দরপত্র ক্রয়ের জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজস্ববিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে জেল রোডে ফুটপাতের ওপর নির্মিত এই নার্সারিকে ‘লালদিঘী পুকুর পাড়স্থ নার্সারী’ উল্লেখ করে ১০০০ টাকা দরপত্রমূল্য এবং নার্সারির সম্ভাব্য মূল্য ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছিল, নির্ধারিত মূল্য অফেরতযোগ্য এবং পে-অর্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এস্টেট শাখা থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত কেনা যাবে। আর এস্টেট শাখায় দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৪ মার্চ দুপুর ১টা পর্যন্ত।
এর মাধ্যমে পরিস্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, সিটি করপোরেশনের সকল নির্দেশ অনুসরণ করেই ফুটপাতের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এ নার্সারি।
সরেজমিনে জেলরোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের জায়গা দখল করে বেশ পাকাপোক্তভাবেই নির্মিত হয়েছে একটি দোকান। সেই দোকানে সাজানো রয়েছে রঙবেরঙের ফুলের টব। আর একপাশে একটি টেবিল ও চেয়ার নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোটখাট একটি অফিস। বিভিন্ন চারাগাছও ছিল সেই নার্সারিতে।
তবে নার্সারির সবচেয়ে বড় আকর্ষণের বিষয়টি ছিল এর সাইনবোর্ড। নার্সারির উপরে বড় একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো ছিল। যেখানে দোকানের নাম বড় হরফে ‘শাহ আমানত নার্সারি’ লেখা। এর নিচেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করে গাঢ় করে লেখা ছিল ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃক অনুমোদিত’।
এক পথচারী অভিযোগ করে বলেন, ‘যেখানে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব চলাচলের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, সেখানে তারাই ফুটপাত দখল করে দোকান নির্মাণ করেছে। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে এমনটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ দখলদার আর তাদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?’
রহমান এলাহী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আজ দেখলাম বহদ্দারহাট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান চলছে। অন্যদিকে, এই জেলরোডে ফুটপাতের ওপর চসিক নিজেই দোকান দিচ্ছে। তাহলে কি চসিক নিজেদের দোকান দেওয়ার জন্যই এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে?’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি গত ১ মার্চ থেকে রাজস্ব বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছি। আমি আসার আগেই এই টেন্ডার হয়েছে। আর আমার কাছে এধরনের কোনো অভিযোগও ছিল না। তবে এই বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখবো।’
সিটি কর্পোরেশন থেকে নার্সারি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ফুটপাতের উপর তো এই দোকানটি থাকার কথা নয়। তবে যদি দোকানটি ফুটপাতের উপর চলে আসে তাহলে আমরা সেটি সরিয়ে দিবো। তাদেরকে ফুটপাতের উপর না আসার জন্য মার্কিং করে দেওয়া হয়েছিল। ফুটপাত ক্রস করা যাবে না এটা লিজের শর্তেই ছিল। এক্ষেত্রে দোকানটির লিজও বাতিল হতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একুশে পত্রিকা/ekusheypatrika