চট্টগ্রাম: ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ ওঠায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের এক চিকিৎসককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগটি হাইকোর্ট নির্দেশিত যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেল তদন্ত করছে। এরপরও ওই চিকিৎসককে অপসারণের দাবিতে ফের কর্মসূচি দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।
চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর এবং আইনী প্রক্রিয়াধীন থাকা একটি বিষয়কে ‘অজুহাত’ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের মত কর্মসূচি ঘোষনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রলীগসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১০ মার্চ যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর মেডিকেল সেন্টারের এক চিকিৎসককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে অভিযোগ দেয়। প্রগতিশীল ছাত্রজোট ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। ১২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলকে দায়িত্ব দেয়। এবং ১৩ মার্চ ওই চিকিৎসককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় প্রশাসন। এরপর প্রগতিশীল ছাত্রজোটের উদ্যোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে করা আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও রোববার প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই চিকিৎসকের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়। তারা ২৩ মার্চ এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুর ১টা থেকে এক ঘন্টা ক্লাস বর্জন ও ২৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইনের ভেতরে থাকা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই নিয়ে রেখেছে। ওই চিকিৎসককে ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নির্যাতন সেল এ অভিযোগ তদন্ত করছে। অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ডাক দেওয়া আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগের নেতারা। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার পরও আন্দোলনের কর্মসূচিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের পায়তারা বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
চবি ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠার পর ওই চিকিৎসককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে প্রশাসন। এ অভিযোগ তদন্ত করছে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। এরপরও এ বিষয়টি নিয়ে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর কথিত আন্দোলন অযৌক্তিক, অবান্তর।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি স্থানে জঙ্গিদের আত্মঘাতি হামলা ও তৎপরতার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ করে সচেতন করার কাজ হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে একপ্রকার মীমাংসিত ও আইনী প্রক্রিয়াধীন থাকা বিষয় নিয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কর্মসূচিকে আমরা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলতার নীলনকশা মনে করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রগতিশীল ছাত্রজোট নেতা ও ছাত্র ইউনিয়ন চবি শাখার সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোন ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু এসব তদন্ত কমিটির বেশির ভাগই আলোর মুখ দেখেনা। সময়ক্ষেপনের কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিও পার পেয়ে যায়। ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়ে যে তদন্ত হচ্ছে তা যেন দ্রুত শেষ হয়, এবং দোষী ব্যক্তির বিচার নিশ্চিত করতেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেল গঠন করা হয়েছে। এটি একটি স্বাধীন কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় আমরা তা তদন্তে ওই কমিটিকে অনুরোধ করেছি। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারের ওই চিকিৎসক প্রক্টর অফিসে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ করেছিল, সেটি তদন্ত করতেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দুইটি তদন্ত কমিটিকেই দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে আমরা অনুরোধ করেছি।