রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সন্ত্রাসী হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

| প্রকাশিতঃ ২৩ মার্চ ২০১৭ | ২:১৩ অপরাহ্ন

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক নারী, এক পুলিশ কর্মকর্তা ও হামলাকারী রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। এই হামলার ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছে যু্ক্তরাজ্য।

বুধবার হামলার শুরুতে ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে পথচারীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয় হামলাকারী। ছুটন্ত গাড়ির সঙ্গে ধাক্কায় নিহত হন ওই নারী। আর পুলিশ কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংসদ হাউস অব কমন্সে সন্ত্রাসীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ সময় পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন হামলাকারী। ব্রিটেনের পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। এ সময় তিনি লন্ডনে ব্রিটিশ সংসদের কাছে গুলি এবং ওয়েষ্টমিনস্টার ব্রিজের কাছে সন্ত্রাসী হামলাকে অসুস্থ ও বিকৃতি রুচির অভিহিত করে নিন্দা জানান। বুধবার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষ তিনি হামলার নিন্দা জানান। বৈঠক শেষে বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং স্ট্রিটে এক ব্রিফিংয়ে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে সংসদ ভবনে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে এক দুর্বৃত্ত। অভিযুক্ত হামলাকারীকে পুলিশ গুলি করে। যুক্তরাজ্যের সংসদ হাউস অব কমন্সের নেতা ডেভিড লিডিংস্টোন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সংসদের স্টাফদের তাদের অফিসের ভেতর থাকার জন্য বলা হয়েছে।

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার রাজনৈতিক সম্পাদক টম পিক এক টুইটে বলেছেন, বিকট শব্দ। চিৎকার। বিপর্যয়। এরপর গুলির শব্দ শোনা যায়। সবখানে সশস্ত্র পুলিশ। হাউস অব কমন্সে ওই ঘটনার সময় অধিবেশন চলছিল। গোলাগুলির শব্দের পর অধিবেশন স্থগিত করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ আছেন বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন।

প্রেস এসোসিয়েশনের রাজনৈতিক সম্পাদক এন্ড্রু উডকক ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, গুলির শব্দ ও লোকজনের চিৎকার শুনে আমি অফিসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। সম্ভবত ৪০/৫০ জন লোক ব্রিজের রাস্তা থেকে সংসদ চত্বরের দিকে দৌঁড়ে আসছিল। তাদেরকে দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো কিছুর তাড়া খেয়ে তারা ছুটছে। মানুষের ভীড়টা যখন ক্যারিজ গেটস-এ এসে পৌঁছল, যেখানে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে, হঠাৎ সেখানে ভীড়ের দিকে একজন মানুষ দৌড়ে এল। এবং ভেতরে ঢুকে গেল। তার হাতে লম্বা একটি ছুরি ধরা ছিল।

সে সময় গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হয় তিনটি। আমি দেখলাম সেখানে দুজন লোক মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। অন্যরা তাদেরকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে গেল। সশস্ত্র পুলিশ খুব দ্রুত সেখানে উপস্থিত হল। আর তারা সেখানে থাকা লোকদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য চিৎকার করছিল।