
মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রাম মহানগরে ঢিলেঢালাভাবে পার হচ্ছে সাতদিনের লকডাউন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভেঙেই গতবছরের তুলনায় অনেক বেশি মানুষকে শহরের রাস্তায় যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করছেন অনেকেই।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ দোকানপাট ও মার্কেট খোলা। মার্কেটের সামনে বসে আছেন দোকান মালিক বা কর্মচারী। মার্কেটে ঢোকার মূল ফটক বা দোকানের সাটার অর্ধেক খোলা রেখে বেচাকেনা চলছে। নগরের কোথাও দেখা যায়নি পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি।
তবে দুয়েকটা জায়গায় ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান ছাড়া সরকার ঘোষিত নির্দেশনা কার্যকরে জেলা প্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসনের তেমন কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘গতবছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর দিকে মানুষ যেরকম সচেতন ছিল এবার তা কম লক্ষ করা যাচ্ছে। তবু আমরা মাঠে আছি। ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালাচ্ছেন। যারা লকডাউন না মেনে দোকানপাট খোলা রাখছেন তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।’
মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “শহরের অধিকাংশ সরকারি, বেসরকারি অফিস আদালত খোলা, সেকারণে রাস্তায় অনেক মানুষকে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। তবুও আমারা মানুষকে জিজ্ঞেস করছি। যখন লোকজনকে থামাই তখন কেউ কেউ অফিসে যাওয়ার কথা বলে, আবার কেউ জরুরি সেবার কাজে যাচ্ছেন বলে আমাদের জানান।’
সিএমপির আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “লকডাউনে গতবছরের মতো কঠোর হতে এবার তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। গতবার সরকারি অফিস আদালত বন্ধ ছিল। এবার না থাকায় সড়কে বা মার্কেটে বেশি মানুষ দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরের প্রায় সবগুলো কাঁচাবাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। রিয়াজউদ্দিন বাজার, জুবিলী রোডের হাডওয়্যার মার্কেট, টেরিবাজার, আন্দরকিল্লা এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কেট ও দোকানের সাটার অর্ধেক খোলা রেখে ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করছেন। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। বিক্রেতা এবং বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক।
মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে টেরিবাজারে এক বিক্রয়কর্মী বলেন, “মাস্ক আছে পকেটে। লোকজনের বেশি ভিড় দেখলে পড়ব।”
দেখা গেছে, জুবিলী রোডের ইমাম গাজ্জালী মার্কেটে প্রবেশের মূল সাটারটি অর্ধেক খোলা। মার্কেটের ভেতরে ক্রেতার ভিড়। মেসার্স টুলস এন্ড মেশিনারিজসহ কয়েকটি দোকানে পণ্যের বিক্রি বাট্টা চলছে।
দোকানের ফটক মার্কেট খোলা রেখে পণ্য বিক্রির দৃশ্য দেখা গেছে জুবিলী রোডের রফিক মেশিনারিজ, বিএস এন্টারপ্রাইজ, হাশেম স্যানিটারি, শাহ আলম স্যানিটারিসহ ওই এলাকার বেশ কিছু দোকানে। জুবিলী রোডের ইলেকট্রিক মার্কেট খ্যাত গুলশান প্লাজার নিউ বেঙ্গল, নন্দনকাননের লায়লা কমপ্লেক্সসহ আশপাশের সব মার্কেটের ঢোকার মূল ফটক সামান্য বন্ধ রেখে ভেতরের দোকানে পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিকাল চারটার দিকে লকডাউন না মেনে পণ্য বেচাকেনার ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে রিয়াজউদ্দিন বাজারে। এখানকার সিডিএ মার্কেট, আজিজ শপিং সেন্টার, মদিনা মাকেটসহ প্রায় বিপণী কেন্দ্রের ভেতরে অধিকাংশ দোকানপাট খোলা। মার্কেটের মূল ফটকে জটলা বিক্রয়কর্মীদের। তারা ক্রেতাদের জিজ্ঞেস করেন, আপু কী লাগবে। আসুন ভেতরে আসুন। মার্কেট খোলা আছে।
দেখা গেছে, রিয়াজউদ্দিন বাজারের শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, জুতা, কসমেটিকস, ক্রোকারিজসহ বিভিন্ন দোকান ঘিরে ক্রেতার ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই, পণ্য বিক্রি হচ্ছে দেদার।
টেরিবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, জেএস প্লাজা, জহুর ম্যানসন, বিচিত্র বিপণী, এসবি ঘোষ মার্কেট, নিউ ইকবাল মার্কেট, হাজি দুদু মিয়া মার্কেট, ইব্রাহীম ম্যানসন, দেওয়ান বাজারে এশিয়ান ফার্নিচার, দেশ স্টিল, গিনি জুয়েলার্সসহ প্রায় ৬০ শতাংশ দোকান খোলা। এদিকে লকডাউন মেনে দোকানপাট বন্ধ রাখতে দেখা গেছে চকবাজারের মতি টাওয়ার, গুলজার মার্কেট, চক সুপার মার্কেটে৷
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করতে সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে একাধিক টিম মাঠে আছে। তারা কাজ করছেন।’