শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

তিন লাখ টাকার বিনিময়ে ভাইয়ের এই হাসি কি আর ফিরে পাবো?

| প্রকাশিতঃ ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৩:০৭ অপরাহ্ন

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী : বাঁশখালীর গন্ডামারা এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে ইফতারের সময় বিরতি ও বেতন বৃদ্ধি, শুক্রবারে ১০ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনাসহ ১০ দফা দাবিতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে ৫জন শ্রমিক নিহত হন।

নিহত ৫ জনের একজন কোরআনে-হাফেজ মাহমুদ রেজা মিনহান (১৯)। এবারের দাখিল পরীক্ষার্থী ছিলেন তিনি। মসজিদে সীমিত মুসল্লি হওয়ায় তার খতমে তারাবিও বন্ধ। সেই সুবাদে ঈদের প্রাসঙ্গিক খরচ মেটাতে ১৮-২০ দিন আগে গন্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজে যোগদান করেছিলেন। আশা ছিল রোজগার করে সে অন্য সবার মত নতুন জামা কিনবে ঈদের জন্য। জামা কেনা হয়েছে ঠিকই। এই জামা ঈদের রঙ্গিন জামা নয়। সাদা রঙের পোশাকে তাকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে। কিন্তু কে জানতো তাকে এভাবে রক্তমাখা পোশাকে বাড়ি ফিরতে হবে!

জানা যায়, গন্ডামারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুর্ব বড়ঘোনা এলাকার হামিদ উল্লাহ মিয়াজীর বাড়ির মৃত মাওলানা আবু ছিদ্দিকের ছেলে মাহমুদ রেজা (মিনহান)। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এক মাস পুর্ণ হয়নি এখনো। তার অপর বড় ভাই মাওলানা ইয়ার মোহাম্মদ ওমান প্রবাসী। একে তো মাদরাসা বন্ধ, তার উপর মসজিদে তারাবি বন্ধ উপলক্ষে বেকার বসে না থেকে কাজে যোগ দিয়েছিল সে। কিন্তু অন্য চার জনের সাথে ঘাতক বুলেট এই কোরআনে হাফেজের প্রাণ কেড়ে নিলো।

তার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না এলাকাবাসী ও তার পরিবার। ১৯ বছর বয়সি মিনহানসহ গন্ডামারা ট্র্যাজেডিতে ৫ খুনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক এমনটাই প্রত্যাশা নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর।

মাহমুদ রেজা খান মিনহানের মেজভাই আহমদ রেজা খান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি ভাইয়ের মিষ্টি হাসি আর দেখবো না। ঘাতক বুলেট আমার কলিজার টুকরা ভাইয়ের প্রাণ কেড়ে নিলো। শুনলাম লাশের মূল্য নাকি ৩ লাখ। ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে জীবনের দফারফা করতে চায় ওরা।’

‘আরে আমার ভাইয়ের হাসির মূল্য ছিল ৩ কোটি টাকার বেশি। কে পারবে সেই মুচকি হাসি দিয়ে আমার পরিবারকে খুশি রাখতে? ওরা তো পরিবারে খুশি এনে দিতে জানে না। জানে শুধু অন্যের খুশি কেড়ে নিতে।’ – বলেন ভাই আহমদ রেজা খান।

নিহত মিনহানের বড়ভাই ওমান প্রবাসী এয়ার মোহাম্মদ মুঠোফোনে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর ৫ দিন পর ফাতিহা দিয়ে ছোট ভাইদের মানুষ করার উদ্দেশ্যে ওমানে পাড়ি জমাই। ১২ ঘণ্টার ডিউটি ১৫ ঘণ্টা করছি ছোট ভাইদের মানুষ করার জন্য, শিক্ষিত বানানোর জন্য। আমার আশা পূরণ হলো না। পুলিশ আমার হাফেজ ভাইয়ের প্রাণ কেড়ে নিলো। আমি ভাই হত্যার বিচার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাই।

একুশে/এমবিইউ/এটি