নজিব চৌধুরী: পরিবেশ সংরক্ষণ ও তদারকি করার জন্যে, ‘বাংলাদেশ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের’ বাস্তবায়নকাকারী সংস্থা হিসেবে ১৯৮৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ‘জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ’ বিভাগের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় পরিদর্শন করেছে।
২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) সকালে ‘এনভায়রনমেন্টাল রিপোর্টিং’ কোর্সের এসাইনম্যান্টের ভিত্তিতে, পরিবেশ বিষয়ক তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে যায় শিক্ষার্থীরা। শুরুতে শিক্ষার্থীরা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে, চট্টগ্রাম মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিককে ফুলের তোড়া ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা। তারপর পরিচালকের সাথে শিক্ষার্থীদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় মো: আজাদুর রহমান মল্লিক শিক্ষার্থীদেরকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠাকাল,আইন ও অধ্যাদেশের মধ্যে পার্থক্য, পরিবেশ বিষয়ক আইন, লক্ষ্য- উদ্দেশ্য,কার্যাবলী ও সেবা প্রদান সমুহ যেমন, শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দূষণ ক্যাটাগরি অনুযায়ী ক্লিয়ারেনন্স সার্টিফিকেট প্রদান,পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান, পরিবেশগত সমীক্ষা পরিচালনা এবং পর্যালোচনা, পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি বিষয়ে জানান।
পাশাপাশি পাহাড়ের প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংরক্ষণ, যানবাহন জনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বায়ু ও পানির গুনগত মান পরীক্ষণ, পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন, চুক্তি ও প্রটোকল, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কার্যক্রম, জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, বিষাক্ত এবং বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের নিরাপদ ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যাবলী, ওজোনস্তর সুরক্ষা কার্যক্রম, পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করণ ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশে প্রভাব, বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ, ইটের ভাটার চিমনির কালো ধোয়া, ধানী জমি খনন, বনাঞ্চল ও পাহাড় উজাড়, শিল্প দূষণের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে জানতে চায়। এছাড়া চট্টগ্রামে অপরিকল্পিত নগরায়ন, বহুতল ভবন নির্মাণ, যত্রতত্র ময়লা অবর্জনার স্তুপ,যানবাহনের দূষণ, পটকাবাজী ও হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো,কর্ণফুলী নদী দূষণ, সীতাকুণ্ডে গাছ কেটে বিদ্যুৎ সংযোগ, বাঁশখালীতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, পতেঙ্গা অপরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত ইত্যাদি পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ড সম্পর্কেও জানতে চায়।
এ প্রেক্ষিতে মো: আজাদুর রহমান মল্লিক আরও বলেন, আমরা এসব প্রতিনিয়ত তদারকি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সভা সেমিনার করে থাকি। আমাদের লোকবলের অভাবে কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমরা, বর্তমান সরকারের ভিশন অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে একটি দূষণমুক্ত, বসবাসযোগ্য, সুস্থ, সুন্দর ও মডেল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।