পাঠ্যপুস্তকে ভুলের ঘটনায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তাদেরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিভিন্ন কলেজে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এই কথা জানানো হয়। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাদেরকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে এই আদেশে।
আদেশে অনুযায়ী এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রম শাখার সদস্য আব্দুল মান্নাকে ঝিনাইদহের সরকারি কে সি কলেজে এবং সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক গৌরাঙ্গ লাল সরকারকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। আর এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ মোসলে উদ্দিন সরকারকে পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ ও হাননান মিঞাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে পাঠানো হয়েছে।
এরআগে মঙ্গলবার রাতে আরেক আদেশে এনসিটিবির সচিব ইমরুল হাসানকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। আর গবেষণা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা লিপিকে পাঠানো হয় সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাঠ্যপুস্তকে ভুলের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এই কর্মকর্তাকে দায়ী করেছিল।
চলতি শিক্ষাবোর্ডে চার কোটি ৩৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর হাতে ৩৬ কোটিরও বেশি বই তুলে দেয়ার সাফল্য ম্লান হয়ে যায় বইয়ে নানা ভুলভ্রান্তি থাকার ঘটনায়। পাঠ্যপুস্তক বিতরণের পরপর বইয়ে ভুল নিয়ে গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। আর কাদের জন্য এই ভুল তা তদন্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আলাদা একটি তদন্ত কমিটি করে পাঠ্যপুস্তব বোর্ড এনসিটিবিও।
এনসিটিবির তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে সংস্থাটির প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার এবং ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করা হয়। আর এনসিটিবির আর্টিস্ট কাম ডিজাইনার সুজাউল আবেদীনকে করা হয়েছে বরখাস্ত। নতুন পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পাঠ্যবই পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে এনসিটিবি। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও দায়ীদের চিহ্নিতে একটি কমিটি করে।