ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বৃটিশ আমলে জমিদারি প্রথা ছিল। জমিদারি রক্ষা করার জন্য প্রতিবছর বৃটিশ শাসকদের কর দিতে হত। প্রতিবছর কর দিলেই জমিদারি টিকে থাকতো। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কি তাহলে দিল্লির কাছে কর দিতে গেলেন?
তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) সরকার নতজানু হয়ে যে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক করেছে, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ দেশের মানুষ কখনো এ চুক্তি মেনে নেবে না। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোববার সকালে বাংলাদেশ জাতীয় দল আয়োজিত এক মানববন্ধেনে রিজভী এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা গোপনীয়তাকে ভারতের কাছে উন্মোচন করে দিলেন। এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষার এক্সটেনশন হবে কিনা—আমরা সেটাই দেখতে পেলাম কালকে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করেছে, এটা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাদের দয়ার দান। এটা তাদের স্বার্থেই করেছে।
ভারত সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, একজন ব্যক্তিকে তাবেদার করে রাখতে পারেন।একজন ব্যক্তি মানে কিন্তু দেশের জনগণ নয়। আপনারা বাংলাদেশের জনগণকে গুরুত্ব দেন না। আধিপত্যবাদী চরিত্র নিয়ে হাজির হন। শ্রীলঙ্কায় তামিলদের অস্ত্র দিয়েছেন, সিকিম আত্মসাৎ (দখল) করেছেন, ভুটানকে করার চেষ্টা করেছেন, নেপালকে চেষ্টা করেছিলেন-কিন্তু পারেননি। বাংলাদেশকেও পারবেন না।
বাংলাদেশ চীনের বলয়ে ঢুকে পড়ে কি না এ নিয়ে ভারতের যতো ভয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভারতের সাবেক এক সেনা প্রধান বলেছেন তাদের অস্ত্র সেঁকেলের। পৃথিবীর যে দেশ আধুনিক অস্ত্র বানায়, টেকনোলজি ভাল, তাদের সাথে চুক্তি হতে পারে। কিন্তু আপনাদের মতো সেঁকেলে অস্ত্র যারা আমদানি করেন, তাদের সাথে অস্ত্র উৎপাদনের কথা ভাওতাবাজি। এটা চক্রান্তের অংশ।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম, গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএন আমিনুর রহমান, ডিএলএ মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবু নাছের মো. রহমতুল্লাহ, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।