শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘জ্ঞানের অভাবে সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতা’

| প্রকাশিতঃ ১৮ এপ্রিল ২০১৭ | ৪:৫৫ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: জ্ঞানের অভাবে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু ব্যক্তি এবং সংগঠন শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরেই চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে বলে জানিয়েছে সুইমিংপুল বাস্তবায়ন কমিটি।

এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে ‘সুইমিং পুল নির্মাণে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও সুইমিং পুল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলী আব্বাস।

প্রসঙ্গত গত ১০ এপ্রিল লালদিঘীর সমাবেশে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সুইমিংপুল নির্মান বন্ধের জন্য ১৫ দিনের সময় বেধেঁ দেন; অন্যথায় সন্তানরা গিয়ে স্থাপনা ভেঙে দেবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। এর আগে গত রোববার সুইমিং পুল নির্মাণ বন্ধ করতে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয় মহিউদ্দিনের অনুসারী নগর ছাত্রলীগের নেতারা।

সুইমিং পুল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলী আব্বাস বলেন, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদানে এই সুইমিংপুলটি নির্মিত হচ্ছে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা সমূহে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মালিকানাধীন জায়গাতেই সুইমিংপুল নির্মিত হয়েছে। অন্যের কিংবা মূল স্টেডিয়াম থেকে বিচ্ছিন্ন কোন স্থানে সুইমিংপুল নির্মাণের কোন নজির বাংলাদেশে নেই। কারণ, এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক তদারকির প্রয়োজনেই সুইমিংপুল নির্মাণের স্থান নির্ধারণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রায় ১১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৭০ হাজার ৩৮০ বর্গফুট (৩০৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৩০ ফুট প্রস্থ) জায়গায় আধুনিক মানের এই সুইমিংপুলটি নির্মিত হতে যাচ্ছে। যা আমাদের ক্রীড়াবিদদের উৎকর্ষতা সাধনে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাঁতারু গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খেলার মাঠ ও সুইমিংপুল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যারা সুইমিংপুলকে খেলার মাঠ থেকে আলাদা কোন বিষয় মনে করে তাদের ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে নূন্যতম কোন ধারণা নাই বললেই চলে। কারণ, উন্মুক্ত মাঠের মত সুইমিংপুলেও শারীরিক কসরত ও ক্রীড়া কর্মকান্ডই সংগঠিত হয়ে থাকে। সুইমিং অন্যান্য দশটি ইভেন্ট যেমন: ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, হ্যান্ডবল ইত্যাদির মত অলিম্পিক গেমস্ভুক্ত একটি ইভেন্ট। সুতরাং, এই ইভেন্টগুলোর চর্চার জন্য যেমন মাঠের প্রয়োজন তেমনি সাঁতার চর্চার জন্যও সুইমিংপুলের প্রয়োজন। মূলত: এই জ্ঞানের অভাবে কিছু ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু ব্যক্তি এবং সংগঠন শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরেই এই সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে। যা একান্তই দুঃখজনক ও চট্টগ্রাম ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধাও বটে।

প্রায় ৪ দশক অপেক্ষার অবসান শেষে ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে চট্টগ্রামে কাক্সিক্ষত সুইমিংপুল নির্মিত হতে যাচ্ছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রামবাসী প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিরঋণী। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার ও উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ঢাকার একটি স্বনামধন্য কনস্ট্রাক্টশন ফার্ম সকল নিয়মনীতি মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সুইমিংপুল নির্মাণের এ কাজটি ইতোমধ্যে শুরু করেছে।

আলী আব্বাস বলেন, চট্টগ্রাম একটি বিভাগীয় শহর হওয়া হত্বেও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও এখানে একটি সুইমিংপুল নেই, চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখার সুযোগ নেই। এ লজ্জা আমাদের সকলের। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনস্ত প্রায় শতাধিক ক্লাবের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা সাঁতার জানে না। এটি ভাবতেও কষ্ট হয়। আপনারা জানেন সাঁতার না জানার কারণে গত কয়েকদিন আগে তরুণ একটি প্রাণ ঝরে গেছে। এই দায় আমাদের সকলেরই। দায়মুক্তির এ সুযোগের বিরুদ্ধে যারা বিরোধিতা করছে তারা নিজেদের বিবেককে একবার প্রশ্ন করুন। আশা করি উত্তর পেয়ে যাবেন।

সুইমিংপুল নির্মাণের প্রত্যয় ঘোষনা করে এবং নির্মাণ শেষে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে টেলি-কন্ফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের ঘোষনা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দীন মো: আলমগীর, সিজেকেএস এর অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব দিদারুল আলম চৌধুরী, আ.ন.ম ওয়াহিদ দুলাল, একেএম আবদুল হান্নান আকবর, মোহাম্মদ ইউসুফ, আছলাম মোর্শেদ, অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, রেখা আলম চৌধুরী, রেজিয়া বেগম ছবিসহ সিজেকেএস কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, মকসুদুর রহমান বুলবুল, প্রবীন কুমার ঘোষ, আকতারুজ্জামান, ফুলিনা চৌধুরী সহ অন্যান্য কাউন্সিলরবৃন্দ, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নুরুল আবেদীন নোভেল, আকরাম খান, ফজলে বারী খান রুবেল প্রমুখ।