রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

সরকার করুণা বিতরণ করে না : কাদের

| প্রকাশিতঃ ২২ এপ্রিল ২০১৭ | ৮:৪৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : বিএনপি রাজনৈতিক দুর্ঘটনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। শনিবার নগরের দি কিং অব চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে এই প্রতিনিধি সম্মেলন হয়।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। বিএনপি সব আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ। কুমিল্লাতে জিতে তারা সারা দেশ জয় করে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা নারায়ণগঞ্জে জিতে এত উচ্ছ্বাস দেখাইনি। ইউনিয়ন পরিষদের ৯০ পার্সেন্ট আমাদের। তৃণমূলে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হচ্ছে। এই বিজয়কে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের কাছে ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়ে যেতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ পারবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি বলে, আমাদের নির্বাচনে ডাকতে হবে। আরে ডাকতে হবে কেন? আপনারা কি আমাদের ডেকেছিলেন? আপনারা যখন ক্ষমতায় তখন আমাদের কি নির্বাচনে ডেকেছিলেন? কে কাকে ডাকে? নির্বাচন আমার অধিকার, অংশগ্রহণ করার। এটা কারও দয়া নয়, কারো করুণা না। সরকার কি করুণা বিতরণ করবে? আপনাদের নির্বাচনে আনার জন্য? গরজ আপনাদের। ভুল করেছেন গতবার ভুলের চোরাবালিতে আটকে আছেন। এই চোরাবালি থেকে বের না হলে আপনাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব আগামী নির্বাচনে ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড, এখন সমান অধিকার চান। কে দেবে? সরকার? নির্বাচন কমিশন? সমান অধিকার কুমিল্লায় পাননি? নারায়ণগঞ্জে পাননি? নারায়ণগঞ্জে হারলেন, কুমিল্লায় জিতলেন। এরা জিতেও বলে, আরও ভোট পেতাম, যদি নির্বাচন নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ হত। কে এদেরকে বোঝাবে? এরা বেপরোয়া হয়ে গেছে, ক্ষমতা পাওয়ার জন্য। বেপরোয়া ড্রাইভার রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটায়। বিএনপি বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো বেপরোয়া রাজনীতিক হয়ে রাজনৈতিক দুর্ঘটনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোন সময় কোনটা ঘটিয়ে ফেলে, বলা যায় না। মাঝে মাঝে যা হয়, এখানে ওখানে, সিলেটে, মিরসরাইয়ে, সীতাকুন্ডে, যা যা হয়। ঢাকার আশকোনা, কল্যাণপুরে। পেছনে কারা?

এসময় দর্শক সারি থেকে কেউ কেউ বলে উঠেন বিএনপি। তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, ঠিক। প্রধান পৃষ্ঠপোষক।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সহ-সভাপতি ও রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা এবং সীতাকুন্ডের সাংসদ দিদারুল আলম। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালামের সঞ্চালনায় তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে ২৫ জন বক্তব্য রাখেন প্রতিনিধি সভায়।