শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বান্দরবান সদর হাসপাতাল: জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনায় ব্যাহত সেবা

| প্রকাশিতঃ ৪ এপ্রিল ২০২২ | ৪:৫০ অপরাহ্ন


রিজভী রাহাত, বান্দরবান : বান্দরবান সদরে একমাত্র সরকারি হাসপাতালে জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ জনগণ যথাযথ সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বান্দরবান জেলা সদরে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। পাশাপাশি ময়লা আবর্জনায় নোংরা হাসপাতালের পরিবেশ। এতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসকের অভাবেই এ অবস্থা।

২০০৫ সালে ৫০ থেকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয় বান্দরবান সদর হাসপাতালকে। শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়েনি জনবল। ৫০ শয্যার জনবল নিয়েই চালানো হচ্ছে ১০০ শয্যার হাসপাতাল।

আজ সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের চারপাশে নোংরা পরিবেশ ও ময়লার স্তুপ। দেখে ডাস্টবিন মনে হলেও এটি বান্দরবান সদর হাসপাতালের বাইরের চিত্র। শুধু বাইরে নয়, ভেতরেও একই অবস্থা। বাথরুম থেকে শুরু করে রোগীদের থাকার ওয়ার্ডও ভরে গেছে ময়লা-আবর্জনায়। বৃষ্টির পানিতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে দেয়াল।

জেলা সদরের একমাত্র সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসেন হাসপাতালটিতে। কিন্তু চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি সংকটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এছাড়াও ময়লা পরিবেশ ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ভোগেও পড়তে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের।

বর্তমানে এ হাসপাতালে ৩২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৭ জন। প্রায় এক লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ সদর হাসপাতালের জনগণের একমাত্র ভরসা বান্দরবান সদর হাসপাতালটি। কিন্তু এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি মেশিন, ডেন্টাল চিকিৎসার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও পর্যাপ্ত ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, দারোয়ান, স্টোরকিপার, ওয়ার্ডবয়সহ লোকবল সংকটে হাসপাতালের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

হাসপাতালটির ১০০ শয্যার মধ্যে পুরুষ ৫০টি, নারী ২৫, শিশু ১৫ এবং ডায়ারিয়া রোগীর জন্য বরাদ্দ রয়েছে দশটি শয্যা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক আসেন, তবে হাসপাতাল থেকে তারা কোনো ওষুধ পান না।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের বেডগুলোও প্রায় সময় থাকে পরিপূর্ণ। একাধিক রোগী জানান, প্যারাসিটামল জাতীয় কিছু ওষুধ দেওয়া হলেও প্রায় সব ধরনের ওষুধ দোকান থেকে কিনে আনতে হয়।

বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পৌর এলাকার ইসলামপুরের বাসিন্দা অলি আহমদ বলেন, ১০ দিনের বেশি হয়েছে এখানে ভর্তি হয়েছি, সেবা পাচ্ছি, তবে বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনছি। কিন্তু হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না। এসব নোংরা পরিবেশ দেখে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’

একই কথা বলেন সদর উপজেলার সুয়ালকের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম, পৌর এলাকার মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা সামিয়া ইসলাম, শিশু ওয়ার্ডে থাকা শিখা আক্তার। তারা জানান, দীর্ঘ সময় ডাক্তারের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়। আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করে এখান থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বান্দরবান সরকারি কলেজের ছাত্রী সূচনা বড়ুয়া বলেন, ‘আলট্রাসনোগ্রাফি করতে সদর হাসপাতালে আসি। ডাক্তার একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে করে আনতে বলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাইরে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে খরচ বেশি, তাই সদর হাসপাতালে এসেছিলাম।’

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জিয়াউল হায়দার বলেন, ‘পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকা ও জনবল সংকটের কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘অচিরেই ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে। এখন ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চালাতে হচ্ছে।’

তবে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন নীহার রঞ্জন দাশ। তিনি বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে আমরা সেবা নিতে আসা রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে পারছি না। কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যতটুকু সম্ভব রোগীদের সেবা দিতে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা দেয়া আছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, হয়তো শিগগিরই একটা সুব্যবস্থা হবে।’